রাজস্ব সংস্কারে অস্থিরতা: দ্বিতীয় দিনের মতো এনবিআরে কর্মবিরতি, কার্যত অচল দফতর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৫-২৫ ১২:৪৫:৩৬
image

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির অধ্যাদেশ বাতিলসহ চার দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতিতে রয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। ফলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে।
রবিবার (২৫ মে) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের নিচতলায় প্রধান ফটকের পাশে জড়ো হতে থাকেন আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। প্রবেশপথের উভয় ফটক বন্ধ থাকায় গাড়ি প্রবেশ বা প্রস্থান সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তারা হেঁটে ভবনে প্রবেশ করলেও প্রধান মিলনায়তন ও ফটকের আশপাশে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান।
জানা যায়, গত ১২ মে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই রদবদলকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য দাবি করে শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন কর্মকর্তারা।
সকাল থেকে বন্ধ রাখা হয় ভবনের বৈদ্যুতিক সিঁড়ি ও নিরাপত্তা চেকিং পয়েন্ট। পরে একটি সিঁড়ি চালু করা হলেও প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়। ভবনের অভ্যন্তরে ও বাইরে ছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশ, যাদের মধ্যে নারী সদস্যরাও ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করেন আনসার সদস্যরাও।
অনেক কর্মকর্তা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে "অধ্যাদেশ বাতিল চাই", "রাজস্ব বিভাগে গণশুনানি চাই" ইত্যাদি স্লোগানে কর্মবিরতি পালন করেন। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা কামাল দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নিজ দপ্তরে আসেননি বলে জানা গেছে।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছে, তার মধ্যে রয়েছে:
১. জারিকৃত অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করা।
২. এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ।
৩. রাজস্ব সংস্কার কমিটির সুপারিশ জনসমক্ষে প্রকাশ।
৪. সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশীজনের মতামত গ্রহণ।
গতকাল শনিবার সংগঠনটি কর্মসূচি ঘোষণা করে জানায়, রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা সংশ্লিষ্ট দপ্তর ছাড়া বাকি সব দপ্তরে রবিবার পূর্ণ কর্মবিরতি পালিত হবে। একইসঙ্গে আগামীকাল সোমবারও একই ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এনবিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের হঠাৎ সংস্কার উদ্যোগ ও তা বাস্তবায়নের ধরন প্রশাসনিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এতে রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সরকারের সংস্কার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

যা গুরুত্বপূর্ণ: এনবিআরের দৈনন্দিন কার্যক্রমে মারাত্মক স্থবিরতা এসেছে।
রাজস্ব আহরণে ধীরগতি সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই অচলাবস্থায় করদাতারা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রশাসনিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে সংকট নিরসনে এখনো কোনো গঠনমূলক সংলাপ শুরু হয়নি।