খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে নিশ্চিত করেছেন কুয়েটের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান।
ড. হযরত আলী মাত্র ২২ দিন আগে-গত ১ মে-চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কুয়েটের অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু শুরু থেকেই তাঁর নিয়োগকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছিল অসন্তোষ ও বিতর্ক। বিশেষ করে পূর্ববর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তা নিয়ে চলমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি এই পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করে তোলে।
ড. হযরত আলী গত ১৯ মে “দাপ্তরিক প্রয়োজনে ঢাকায় যাচ্ছেন” বলে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। তবে অনেকেই তখন ধারণা করেছিলেন, এটি ছিল আন্দোলনের মুখে ‘আনুষ্ঠানিক সরে যাওয়ার’ একটি পূর্বাভাস।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুয়েট শিক্ষক সমিতি এক মানববন্ধনের মাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগ এবং নতুন প্রশাসন গঠনের দাবি তোলে। এ মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশও অংশ নেয়। তারা অভিযোগ করে, অন্তর্বর্তী উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সমস্যাগুলোর সমাধানে আন্তরিক ছিলেন না বরং সংকট আরও ঘনীভূত করেছেন।
এর আগে ২৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় কুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, দুর্নীতি এবং একতরফা নীতিমালা প্রণয়নের অভিযোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েটের নেতৃত্ব সংকট এখন ঘনীভূত রূপ নিয়েছে। যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি জরুরি হলেও কুয়েট প্রশাসনের ক্রমাগত ব্যর্থতা এই সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে।
ড. হযরত আলীর পদত্যাগের পর কুয়েট এখন কার্যত উপাচার্যশূন্য অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত একজন গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ এবং প্রজ্ঞাবান প্রশাসক নিয়োগ না দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও স্থিতিশীলতা আরও বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কেবল পদত্যাগ নয়, তারা একটি গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চান। এর মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন উপাচার্য নিয়োগ, প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার এবং সকল পক্ষের অংশগ্রহণে সমস্যা সমাধান।