সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল,নতুন অধ্যাদেশ জারি করল সরকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৫-২২ ১২:০৮:৪৬
image

সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ বাতিল করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২১ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে এ নতুন বিধান জারি করা হয়। এটি দেশের সাইবার স্পেসে নিরাপত্তা জোরদার, প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধ শনাক্তকরণ এবং এসব অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করতে প্রণয়ন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত এ অধ্যাদেশটি জনসাধারণের অবগতির জন্য বুধবার সরকারি গেজেটে প্রকাশ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিধি শাখা। লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত রূপ পায়।
অধ্যাদেশের শুরুর অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইনকে রহিত করে এই নতুন আইন কার্যকর করা হচ্ছে। তবে পূর্ববর্তী আইনের কয়েকটি ধারা—১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২২, ২৩, ৩০, ৩২ ও ৩৫—এই অধ্যাদেশের আওতায় বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের লক্ষ্যে নীতিগত ও প্রযুক্তিগত কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ যেমন তথ্য চুরি, ডিজিটাল প্রতারণা, হ্যাকিং ও অনলাইনে সহিংসতা ছড়ানো ইত্যাদি অপরাধগুলোকে বিবেচনায় রেখেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
এছাড়া অধ্যাদেশে সাইবার অপরাধ তদন্তে বিশেষায়িত ইউনিট গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছিল ওই আইনের বিভিন্ন ধারার বিরুদ্ধে। একাধিক মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক সংগঠন ও প্রযুক্তিবিদরা ওই আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আইনি সংস্কারের অংশ হিসেবে সেই বিতর্কিত আইন বাতিল করে নতুন অধ্যাদেশ জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এই অধ্যাদেশ জারি করা হলো।
এই নতুন অধ্যাদেশকে কেউ কেউ ‘একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন, আবার কারও মতে এটি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের নামে নতুন এক নজরদারি ব্যবস্থারও সূচনা হতে পারে। তবে সরকার জানিয়েছে, এই আইনের লক্ষ্য একমাত্র নিরাপদ সাইবার স্পেস গঠন এবং নাগরিকদের ডিজিটাল অধিকার রক্ষা করা।
অধ্যাদেশটি ভবিষ্যতে সংসদে উত্থাপন করে আইন হিসেবে পাস করা হতে পারে। এর আগে সুশীল সমাজ, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে পর্যালোচনা ও পরামর্শ গ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে।