সারাদেশে স্থিতিশীল নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২১ ০০:৩৯:০৮
image

রাজধানীসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতার নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২০ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
এছাড়া দেশের প্রধান তিন বাহিনীর প্রধান-সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খান-সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে উপস্থাপন করেন।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নগর এলাকায় জনজীবনের স্বাভাবিকতা, চলমান আন্দোলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। কোথাও যেন অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন: “দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রাজনৈতিক পরিবেশ হোক বা সামাজিক অসন্তোষ-কোনো কিছুই যেন জননিরাপত্তার জন্য হুমকি না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্যভিত্তিক ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নিয়েও। গুজব প্রতিরোধে সাইবার গোয়েন্দা ইউনিটকে আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে-এমন কোনো ধরনের রাজনৈতিক উসকানির বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠকে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি, আন্দোলন এবং মাঠ পর্যায়ে দলীয় সহিংসতার ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হয়। একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্বাচনপূর্ব নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদারের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, “নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিটি স্তরে সমন্বয় বাড়াতে হবে। প্রয়োজন হলে জেলা পর্যায়ের প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক হবে।” একই সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংক্ষেপেঃ
রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করতে বৈঠক
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন
গুজব, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামাজিক অস্থিরতা মোকাবেলায় বিশেষ নির্দেশ
সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতিতে সতর্ক নিরাপত্তা বাহিনী