ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ। তদন্তে গাফিলতি ও মূল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করায় রোববার (১৩ মে) বিকেলে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ের রাস্তা দখলে নেয় বিক্ষোভকারীরা। মুহূর্তেই থমকে যায় শাহবাগ হয়ে চলা সবধরনের যান চলাচল। স্লোগান ধ্বনিতে কাঁপতে থাকে ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থল—
“সাম্য হত্যার বিচার চাই”,
“উই ওয়ান্ট জাস্টিস”,
“তদন্তে গাফিলতির বিচার চাই”।
সড়কে বসে পড়েন শতাধিক নেতা-কর্মী। কেউ অবস্থান নেন মেট্রোরেল স্টেশনের পাশ ঘেঁষে, কেউ লাইব্রেরির সামনে, কেউ সরাসরি জাতীয় জাদুঘরের মূল ফটকে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিক্ষোভে।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, শাহরিয়ারের হত্যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং যাদের এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা নয় বরং প্রকৃত অপরাধীরা এখনো বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ছাত্রদল নেতারা বলেন-“শাহরিয়ার শুধু একজন কর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ছাত্র রাজনীতির একটি স্পষ্ট কণ্ঠ। এ হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত, আর এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা চাই— মূল আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার।”
শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। তাতে বলা হয়, ‘তদন্তে গাফিলতি, বিচারহীনতা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে’ এই কর্মসূচি।
আজ সকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল করে শাহবাগের দিকে যাত্রা করে দলীয় কর্মীরা। দুপুরে তারা শাহবাগ থানাও ঘেরাও করেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হন শাহরিয়ার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এছাড়া তিনি স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরদিন বুধবার সকালে নিহতের ভাই শরীফুল আলম শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের বর্তমানে ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে ছাত্রদলের দাবি, “এই তিনজন নয়, মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো অধর