নানা দাবির পর অবশেষে ঈদের আগেই সুখবর পেলেন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এবার ঈদুল আজহায় তারা পাবেন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা, যা এতদিন ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে-অর্থাৎ এবার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পথ একপ্রকার সুগম।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহরিয়ার জামিল স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি গত ১৪ মে পাঠানো হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের কাছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে ২২৯ কোটি টাকা পুনঃউপযোজনের মাধ্যমে এ অর্থ দেওয়া হবে।
এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেখানে মূল বেতনের ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা পেতেন, সেখানে একই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা পেতেন ৫০ শতাংশ। বহুদিন ধরেই শিক্ষকরা এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। নতুন সিদ্ধান্তে এই পার্থক্য অবশেষে ঘুচলো।
এতে শিক্ষক সমাজে ব্যাপক স্বস্তি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির এক নেতা বলেন,
“সরকার যে আমাদের দাবি আমলে নিয়েছে, এটা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আশা করি, ভবিষ্যতেও আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।”
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ অর্থ ব্যয় করতে হবে সরকারি আর্থিক বিধি ও বিধান অনুসরণ করে। সংশ্লিষ্ট কোডে সমন্বয় করে এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আওতায় ধরা হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন শিক্ষা খাতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে, তেমনি সরকারি ব্যয়ের কাঠামোতেও মানবিকতা ও ন্যায্যতার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারী এমপিওভুক্ত সুবিধার আওতায় আছেন। তাদের মধ্যে শিক্ষক সংখ্যাই বেশি। তাই এই সিদ্ধান্ত শুধু কিছু টাকার নয়, এটি শিক্ষক মর্যাদার স্বীকৃতিও-এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও জানান, “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা এ বিষয়ে আবেদন করে আসছিলেন। এবার সেই দাবির প্রতিফলন ঘটেছে। এখন আমরা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”