মালয়েশিয়ায় নতুন ‘স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন’ কর্মসূচি শুরু: ৫০০ রিঙ্গিতে দেশে ফেরার সুযোগ,কালো তালিকাভুক্ত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-১৬ ১৫:৪৫:৩৫
image

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের জন্য সুখবর-আসছে ‘স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কর্মসূচি (পিআরএম-২)’। দেশটির সরকার এই কর্মসূচির আওতায় সহজ শর্তে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে। প্রতীকী জরিমানার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ফেরা যাবে নিজ মাতৃভূমিতে।
শুক্রবার (১৬ মে) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিন ইসমাইল এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ১৯ মে ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই পুনঃপ্রত্যাবাসন কর্মসূচি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির অধীনে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, ওভারস্টে করা অভিবাসী কিংবা ভিসার শর্ত ভাঙা ব্যক্তি-সবাই নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে দেশে ফিরে যেতে পারবেন।

জরিমানা কাঠামো:
✅ বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারীদের জন্য: ৫০০ রিঙ্গিত
✅ ভিসা বা পাসের শর্ত লঙ্ঘনকারীদের জন্য: ৩০০ রিঙ্গিত
✅ বিশেষ পাস (Special Pass) নিতে হবে: ২০ রিঙ্গিত
✅ ১৮ বছরের নিচে শিশুদের জন্য: জরিমানা প্রযোজ্য নয় (তবে অভিভাবকদের জন্য প্রযোজ্য)
তবে যারা পূর্ববর্তী ‘পিআরএম-১’ কর্মসূচির আওতায় থেকেও সময়মতো ফিরে যাননি অথবা ইমিগ্রেশনের কালো তালিকায় রয়েছেন, তারা এই নতুন সুযোগ পাবেন না।
সাইফুদ্দিন নাসুতিন স্পষ্ট করে বলেন, এই কর্মসূচি কোনোভাবে মালয়েশিয়ায় থাকার সুযোগ নয়। বরং যারা এখনো নানা কারণে থেকে গেছেন বা ফিরে যেতে পারছেন না, তারা যেন নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরতে পারেন-সেই উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি। এটি আইনগত জটিলতা এড়াতে একটি ‘মানবিক প্রক্রিয়া’।
যেসব অভিবাসীর স্বামী বা স্ত্রী অতিরিক্ত সময় ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন, তাদের জন্য রয়েছে ভিন্ন ব্যবস্থা। তাদেরকে ইমিগ্রেশনের ভিসা, পাস ও পারমিট বিভাগে গিয়ে নিয়মিতকরণের (re-alignment) প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তবে এটি শুধুমাত্র দম্পতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য-সবার জন্য নয়।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি বড় অংশ এখনো বৈধতা না পেয়ে বিপাকে রয়েছেন। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে ফেরার চেষ্টা করেও পারেননি। এই কর্মসূচি তাদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও মানবিক সুযোগ হতে পারে।
কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানান, "আমরা কর্মসূচি কার্যকর হওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং হেল্পডেস্ক চালু করবো যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন।"
পিআরএম-২ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যাবাসনে আগ্রহীদের:
নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
নির্ধারিত জরিমানা ও ফি পরিশোধ করতে হবে।
বিশেষ পাস সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে।
অনলাইনে বা দূতাবাসের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত নির্দেশনা শিগগিরই জানানো হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, এবং জনগণের অসন্তোষ-এই তিনটি বড় চাপের মুখে সরকার 'সফট ল্যান্ডিং' নীতির আওতায় এই কর্মসূচি চালু করেছে। এতে একদিকে সরকারের কঠোরতা বজায় থাকবে, অপরদিকে মানবিক সংকটও কিছুটা লাঘব হবে।
মালয়েশিয়ার পিআরএম-২ কর্মসূচি শুধু অভিবাসীদের ফেরার সুযোগই নয়, বরং এটি হতে পারে একটি নতুন সূচনা। যারা দেশে ফিরে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি সুযোগের জানালা।