ইন্দোনেশিয়ার মালুকুতে ভূমিকম্প: গভীরে কম্পন, ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-১৫ ১২:৫৩:০৬
image

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় মালুকু প্রদেশে আবারও কাঁপলো পৃথিবী। বৃহস্পতিবার সকালে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটি ছিল ৫.৯ মাত্রার-তবে গভীর উৎপত্তিস্থলের কারণে আশঙ্কিত হলেও আপাতত স্বস্তি পেয়েছে স্থানীয়রা।
দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থার (BMKG) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মালুকু বারাত দায়া রিজেন্সি থেকে ১৮৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, ৫১৫ কিলোমিটার গভীরে সমুদ্রতলে।
এই গভীরতা ভূমিকম্পের প্রভাবকে অনেকটা শুষে নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে সাময়িক আতঙ্ক ছড়ালেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভূমিকম্পের পর পরই দেশটির সুনামি সতর্ক কেন্দ্র থেকে জানানো হয়,
“এই ভূমিকম্প সুনামির সম্ভাব্য কারণ নয়। তাই কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।”
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া প্রায়শই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শিকার হয়।
ভূতাত্ত্বিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষে, এই দ্বীপরাষ্ট্রে বছরে গড়ে প্রায় ৭ হাজার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়-যার অনেকগুলো থাকে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা জাগানো।
ভূমিকম্প মানেই ইন্দোনেশিয়ার জনগণের মনে ফিরে আসে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর। সুমাত্রা দ্বীপের উপকূলে সেসময়ের ভূমিকম্প (৯.১ মাত্রা) এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রাণ হারান দুই লাখ ত্রিশ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়াতেই মৃত্যু হয় এক লাখ সত্তর হাজারের বেশি মানুষের।
সেই অভিজ্ঞতা দেশটিকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়-ভূমিকম্প শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, সময়বিশেষে তা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ও।
যদিও বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পটি বড় ক্ষতির কারণ হয়নি, তবুও আবারও মনে করিয়ে দিল-‘প্রাকৃতিক বিপর্যয় কখনোই নোটিশ দিয়ে আসে না’।
গভীর সমুদ্রে উৎপত্তি, জনবসতি থেকে দূরত্ব এবং প্রযুক্তিগত সতর্ক ব্যবস্থা এ যাত্রায় ইন্দোনেশিয়াকে রক্ষা করলেও, ভবিষ্যতের জন্য এমন কম্পনগুলো প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে।
মালুকুর উপকূলীয় জলরাশিতে ঘটে যাওয়া এই ভূমিকম্প হয়তো নিঃশব্দে কেটে গেল, তবে এতে লুকিয়ে আছে এক বড় বার্তা-প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে চাই বিজ্ঞানসম্মত প্রস্তুতি, আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও সচেতন নাগরিক। কারণ, ভূমির নিচে যে আগুন জ্বলছে, তার ঠিক কবে বিস্ফোরণ ঘটবে-তা কেউ জানে না।