সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। জুন ২০২৫ পর্যন্ত শূন্য হওয়া সকল পদের হালনাগাদ চেয়ে দেশের জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে ইতোমধ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে-এবারের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোটাপ্রথা বাতিলের সম্ভাবনাও।
ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ সহকারী শিক্ষকের পদ ফাঁকা রয়েছে, যা জুনের মধ্যে ১০–১২ হাজারে পৌঁছাতে পারে। এর বাইরেও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এবারের নিয়োগে নতুন সংযোজন হচ্ছে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার জন্য ৫,১৬৬টি বিশেষ পদ। এ বিষয়ে ডিপিইর এক কর্মকর্তা জানান, "শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
ডিপিইর সহকারী পরিচালক (নিয়োগ) কামরুন নাহারের সই করা এক আদেশে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের ৩০ জুন পর্যন্ত শূন্য হওয়া সব পদের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত ছকে তথ্য পাঠানোর সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০ মে পর্যন্ত।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-এবারের নিয়োগে কোটাব্যবস্থা বাতিল করা হতে পারে। অতীতে কোটাকে ঘিরে আইনি জটিলতায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় এবার মেধাভিত্তিক নিয়োগের দিকে ঝুঁকছে কর্তৃপক্ষ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই জানানো হবে।
এই প্রক্রিয়ায় প্রায় অর্ধলাখ শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম বড় নিয়োগ সুযোগ। প্রস্তুতির জন্য এখনই সময়, কারণ আসন্ন বিজ্ঞপ্তিতে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা হবে আরও কঠিন ও স্পষ্ট।