শ্রদ্ধাঞ্জলি ঔপন্যাসিক দেবেশ রায়

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৫-১৪ ১৮:০২:৩১
image

১৯৪৭ এর দেশ ভাগ অন্য আরও কিছুর মতো বাঙালির সাহিত্যকেও করেছিলো দ্বিখণ্ডিত।
বাঙালির ইতিহাস নতুন পথে বাঁক নেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের বাংলা কথাসাহিত্যের ভার যাঁরা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দেবেশ রায় ছিলেন সেই নবীনদের দলে। 
জন্ম বাংলাদেশের পাবনা জেলার বাগমারা গ্রামে ১৭ ডিসেম্বর ১৯৩৬ সালে।
দেশভাগের কিছু আগে ১৯৪৩ সালে তিনি তাঁর পরিবারের সঙ্গে পূর্ববঙ্গ ছেড়ে চলে যান জলপাইগুড়িতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় থেকেই প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। রাজনীতির সূত্রেই চষে ফেলেছেন তামাম উত্তরবঙ্গ। শিখেছিলেন রাজবংশী ভাষা। এই সাহিত্যিক কলকাতা শহরেও চুটিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন করতেন। ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল শ্রমিক সমাজের সঙ্গে।
'আহ্নিক গতি ও মাঝখানের দরজা, দুপুর, পা, কলকাতা ও গোপাল, পশ্চাৎভূমি, ইচ্ছামতী, নিরস্ত্রীকরণ কেন, ও উদ্বাস্তু এই আটটি গল্প নিয়ে দেবেশ রায়ের প্রথম গল্পের বই বের হয়।
১৯৭৯ সাল থেকে তিনি এক দশক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস 'যযাতি'।
তাঁর রাজনৈতিক দীক্ষার ছাপই পড়ে সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস 'তিস্তাপারের বৃত্তান্ত'তে।
উত্তরবঙ্গের জীবনের বহতা ধরা আছে এই উপন্যাসে। শ্রী রায় বাস্তববাদী উপন্যাসের প্রচলিত ছক থেকে সরে গিয়ে বহুস্বরকে নিয়ে আসেন।
মানুষ খুন করে কেন, মফস্বলী বৃত্তান্ত, সময়-অসময়ের বৃত্তান্ত- একের পর এক উপন্যাস লেখেন তিনি। ১৯৯৮ সালে লেখা 'তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত' এর জন্য ১৯৯০ সালে তিনি একাডেমি পুরস্কারে সম্মানিত হন।
১৪ মে ২০২০ এ মাটির মায়া ত্যাগ করে চলে যান বাংলা সাহিত্যের ছক ভাঙা ঔপন্যাসিক দেবেশ রায়।