শুভ জন্মদিন শিল্পী কাবেরী দাশ

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৫-১৩ ১৫:৫৬:৫১
image

খ্যাতনামা নজরুলসঙ্গীত শিল্পী ও সঙ্গীত শিক্ষিকা কাবেরী দাশ বাংলাদেশের প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীত ও লোকসংগীত শিল্পী, সংগ্রাহক এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত পন্ডিত রামকানাই দাশের বড় কন্যা।
জন্ম ১৩ মে দিরাই উপজেলার পেরুয়া গ্রামে। পৈতৃক নিবাস সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার পুটকায়। মাতার নাম শ্রীমতী সুবর্ণা দাশ। পিতামহ রশিক লাল দাশ ও পিতামহী দিব্যময়ী দাশ।
স্বাধীনতার পর পিতা-মাতার সাথে সিলেট শহরেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন কাবেরী।
ছোটবেলায় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাঁর বেড়ে ওঠা। 
দাদু রশিক লাল দাশ ও পিতামহী দিব্যময়ী দাশ দুজনেই স্বনামধন্য শিল্পী ও গীতি কবি ছিলেন। পিসিমা শ্রীমতি সুষমা দাশও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রাচীন লোকসংগীত শিল্পী। 
মাতা শ্রীমতি সুবর্ণা দাশও অসংখ্য লোকসঙ্গীত এবং ধামাইল গানের রচয়িতা। ছোটবেলা তাঁর গ্রামেই কেটেছে। গ্রামের স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি ঠাকুরমা দিব্যময়ী দাশের কাছেই সংগীতে হাতেখড়ি কাবেরি দাশের। 
শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁর বিএ বিএড। মৌলভীবাজার বড়লেখা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন তিনি। 
সঙ্গীত যেহেতু তাঁর পরিবারে ছিল তাই এর মাঝেই তিনি ছিলেন সবসময়। পিতার কাছেই সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন। 
পরে কিছুদিন কলকাতার পন্ডিত অরুণ ভাদুড়ী, ওস্তাদ আবু দাউদ ও লক্ষ্মী শঙ্করের কাছে সঙ্গীতের নানান বিষয়ে তালিম নেন তিনি।  
কাবেবী দাশ প্রথম সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বেতারে ছোটদের অনুষ্ঠান 'কিশলয়' এর মাধ্যমে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী ছিলেন তিনি।
কাবেরী দাশ বাংলাদেশে তাঁর পিতার সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান 'সঙ্গীত পরিষদ সিলেট' ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন দীর্ঘদিন। 
শিল্পী কাবেরী দাশের মাতা সুবর্ণা দাশের রচিত গানের বই 'সুবর্ণ গীতি' নামে চৈতন্য প্রকাশনীর ব্যানারে ২০১৮ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে।
অসাধারণ কন্ঠশৈলী আর যাদুকরী কন্ঠের সুরের মূর্ছনায় ভাবাবেগে মোহাবিষ্ট করবেই যে কোনও শ্রোতাকে কাবেরীর গান শুনলে।
১৯৯৭ সাল থেকে হাওর কন্যা শিল্পী কাবেরী দাশ পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। প্রবাসের কঠিন জীবনযাত্রার মাঝেও তিনি সঙ্গীত থেকে পিছপা হননি মোটেও। 
২০০২ সাল থেকে সেখানে তিনি তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত পরিষদের একটি শাখা গঠন করেন এবং 'সঙ্গীত পরিষদ নিউইয়র্ক' নামে বাংলা ও লোকসংস্কৃতি প্রসারে কাজ করে চলেছেন। 
প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের ও ভিন্ন ভাষাভাষী শিক্ষার্থীদের মাঝে সঙ্গীতের তালিম দিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর।
বাংলাদেশসহ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে তিনি যথেষ্ট সুনাম ও ভুয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সঙ্গীতে বিশেষ অবদান রাখায় পেয়েছেন বেশকিছু সন্মাননা। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম 'ধ্রুব পরিষদ' কর্তৃক সন্মাননা।
প্রবাসে বাংলা সঙ্গীতে অবদান রাখায় ২০০৪ সালে বিশেষ সন্মাননা পান ফ্লোরিডার 'বাংলা লিটারেচার এন্ড কালচারাল ইঙ্ক' থেকে। 
২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত সম্মেলন নিউইয়র্ক কর্তৃক বিশেষ সন্মাননা।
২০১৫ সালে সঙ্গীত পরিষদ সিলেট এর সন্মাননা। ওই একই বছরে লাভ করেন নজরুল একাডেমি অব ইউএসএ থেকে নজরুল সঙ্গীত সন্মাননা।
সংসার জীবনে শিল্পী কাবেরী দুই কন্যা সন্তানের জননী। বড় মেয়ে পারমিতা দাশ মুমু স্পেশাল এডুকেশনে মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে স্কুলে কোন অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছে। ছোট মেয়ে শ্রুতিকনা দাশ ম্যাসাচুয়েটস এ ওয়েলেসলি কলেজ থেকে নিউরো সায়েন্স ও সাউথ এশিয়ান স্টাডি নিয়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। শ্রুতি বর্তমানে ন্যাশনাল ক্যানসার ইন্সটিটিউটে রিসার্চ ফেলো হিসেবে কর্মরত আছে। এবছর থেকে সে Emory University School of Medicine এ তার শিক্ষা জীবন শুরু করবে। 
কন্যা পারমিতা ও শ্রুতি পড়াশোনার পাশাপাশি সঙ্গীত নিয়েও সাধনা চালিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গীত মহলে তারা উভয়েই সঙ্গীত প্রতিভার জন্য সমাদৃত। 
'সুদুর পারে' নামে তাঁর একটি এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে যা সূধী মহলে ব্যাপক প্রসংশা কুড়িয়েছে। 
বাংলা সংস্কৃতিকে বিশেষ করে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও বাংলা লোকসংস্কৃতিকে প্রবাসে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে চলেছেন তিনি নিরন্তর। 
শিল্পী কাবেরী প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রচার  ও প্রসারে কাজ করে যেতে চান আজীবন।
তাঁর সঙ্গীত জীবনে সকল অর্জনের পেছনে পরিবারের সকল সদস্য, বন্ধুবান্ধব, শুভানুধ্যায়ীদের অনুপ্রেরণার জন্য চিরকৃতজ্ঞ তিনি।  
আজকের এই বিশেষ দিনটিতে জেমিনি স্টার এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হাওরকন্যা কাবেরী দাশের জন্য রইল শুভ কামনা।