গোমস্তাপুরে চাঞ্চল্যকর কবিরাজ মতিন তেলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন,৩ আসামী গ্রেপ্তার

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৫-০৫-১২ ১৮:৪৫:৩৭
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের হরিনগর কালিতলা গ্রামে মো. শুকুরুদ্দীন নামে এক ব্যাক্তির বাড়িতে গত ২ মার্চ দিবাগত রাতে কবিরাজ মতিন তেলীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে  নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায়  দায়ের মামলার এৎাহারনামীয়  ৩ আসামীর  সকলকেই  গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদঘাটিত হয়েছে হত্যা রহস্য। শুকুরদ্দীনের স্ত্রী পেয়ারা বেগমের সাথে পরকীয়া প্রেম ও শারিরীক সম্পর্কের জেরেই খুন হন মতিন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে প্রধান দুই আসামী খুনের ঘঠনায় নিজেদের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন।  নিহত মতিন (৪০) পাশের সাহেবগ্রাম এলাকারবাসিন্দা। সোমবার(১২মে) দুপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জাননো হয়।
পুলিশ জানায়, খুনের পর ৩ মার্চ  ওই বাড়ি থেকে  মতিনের মরদেহ উদ্ধার  হয়। তবে  বাড়ির বাসিন্দ পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায় নি। এ ঘটনায় ৩ মার্চ  মতিনের স্ত্রী ফেনী বেগম গোমস্তাপুর থানায় শুকুরুদ্দীন(৪২),তাঁর স্ত্রী পিয়ারা বেগম(৩৫) এবং তাঁদের ছেলে পিয়ারুল ইসলাম ওরফে জিয়ারুলের (২৩) নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় মামলা করেন। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) মামলার তদন্তভার দেয়া হয়। তদন্তভার পেয়ে ডিবি’র  একটি দল ছদ্মবেশে গত ৯মে মানিকগঞ্জ সদর এলাকা থেকে এজাহারনামীয় ৩ আসামীর সকলকে গ্রেপ্তার করে। গত ১০মে তাঁদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতে তোলা হলে  ১ নং আসামী শুকুরুদ্দীন ও ২ নং আসামী পিয়ারা বেগম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ আরও জানায়,মতিন তেলের ব্যবসার পাশাপাশি কবিরাজিও করতেন।  শুকুরুদ্দীনের স্ত্রী পেয়ারা বেগমের চিকিৎসার সুবাদে ওই বাড়িতে যাতায়াত শুরু হয় মতিনের। এক পর্যায়ে পেয়ারার সাথে পরকীয়া প্রেম ও শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তোলেন মতিন। পেয়ারা ওই সম্পর্ক থেকে বের হবার চেষ্টা করলেও মতিনের কারণে তা সম্ভব হয় নি। ঘটনার  রাতে  চিকিৎসা করতে গিয়ে  শুকুরুদ্দীনকে বাইরে পাঠিয়ে পেয়ারার সাথে জোরপূর্বক শারিরীক সম্পর্ক করেন মতিন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পেয়ারা ধারাল অস্ত্র দিয়ে মতিনকে  এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় শুকুরুদ্দীন বাড়ি এসে ঘটনা দেখে তিনিও মতিনকে কোপাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে মতিন নিস্তেজ হয়ে পড়ে যান। তখন দম্পতি মোবাইলে ছেলে জিয়ারুলকে ডেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালান।