খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য নাহার আক্তারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল, বসত-বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট, মারপিট ও মিথ্যা মামলায় হয়রাণির অভিযোগে শনিবার (১০ মে) পাইকগাছার কপিলমুনিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হরিঢালী ইউনিয়নের মাহমুদকাটি গ্রামের মৃত উজির আলী গোলদারের ছেলে সাত্তার গোলদার তার কপিলমুনি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত আওয়ামী লীগের শাসনামলে তৎকালীণ জেলা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য স্থানীয় নাহার আক্তার (৪৫) ও তার পোষা সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলা, মামলা ও হয়রাণির শিকার হয়ে বাড়িছাড়ার উপক্রম হয়েছিল তার।
তিনি বলেন, তার পিতা উজির আলী গোলদার জীবদ্দশায় গত ১৪/০১/৪৬ তারিখে রেজিস্ট্রি কবুলতি মূলে মাহমুদকাটি মৌজার এসএ ১২৯ খতিয়ানের ৩২১ দাগের ১.১০ একর জমি প্রাপ্ত হন। যার রেজিস্ট্রি কবুলতি নং-৭৬।
যা সর্বশেষ বিআরএস ডিপি ৯৬ নং খতিয়ানে ৪৭৫ দাগে .২৬ একর ও ৪৭৭ দাগে .৮৪ একর সম্পত্তি চুড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হয়। পিতার মৃত্যুর পর তিনি ওয়ারেশ ও শরিক খরিদা সূত্রে ৪৭৫ দাগে ২০.৫ একর সম্পত্তি প্রাপ্ত হয়ে সেখানে পাঁকা বসতবাড়ি নির্মাণপূর্বক শান্তিপূর্ণ বসবাস করে আসছিলেন।
একপর্যায়ে নিজ সীমানায় নতুন ঘর নির্মাণ করতে গেলে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য লেডি সন্ত্রাসী নাহার আক্তার ও তার অনুগত সন্ত্রাসীরা তার কাছে কয়েক দফায় ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। তাদের চাহিদামত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় নানাভাবে হুমকি-ধামকি ও অনুগত বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে তার বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা করে ভাংচুর, লুটপাট ও মারপিট করে। ঐসময় তারা নগদ আড়াই লক্ষ টাকাসহ ৪ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার লুট ও বসত-বাড়ি ভাংচুর করে অন্তত সাড়ে ৬ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধান করে। এসময় তারা ঘটনার প্রতিবাদ করলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। এসময় তারা তার ও তার স্ত্রী-ছেলেদের মারপিট করে গুরুতর যখম করে।
এসব ঘটনায় থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যার্থ হয়ে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আাদালতে নাহার আক্তারকে প্রধান করে ৯ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-৬০৫/২০। এর আগে তারা তার একটি দোকান ঘরের অবৈধভাবে দখল নেওয়ার অপচেষ্টা শুরু করলে তিনি পাইকগাছা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌ:কা:বি: ১৪৪ ধারা মোতাবেক একটি মামলা করি। যার নং-এম,আর- ১২৫/২০। যা চলমান রয়েছে। মূলত এ মামলার পর তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে একের পর এক হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি নাহারের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পাইকগাছা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে গত ১৭/১১/২০ তারিখে একটি মামলা করি। যার নং-২৬০/২০। মামলা চলাকালীণ সাত্তার অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে আদালত নাহারকে কারণ দর্শাও নোটিশ জারী করে। এতে সে জবাব দাখিল করলেও আদালতের গত ১৭/১/২১ তারিখের স্থিতিশিলতা বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে ১৮/২/২২ তারিখে তার দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করে তদস্থলে টিনশেড ঘর নির্মাণের অপচেষ্টা করে।
সর্বশেষ গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনে সরাসরি তাদের বিরোধিতা করে নতুন সমালোচনার মুখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের ঐ দিন বিকেলে অনেক অত্যাচারীর ন্যায় তার বাড়িতেও ভাংচুর হয়। তবে ধুরন্দর নাহার আক্তার ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ৫ আগস্টের ঘটনা ৭ আগস্ট ও সাড়ে ৫ মাস পর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারী দ্বিতীয় ঘটনা দেখিয়ে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাত্তার গোলদার ও তার ছেলে লিটন গোলদারসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামী করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। যার নং ৭৮/২৪। নিজের অপকর্ম আড়াল করতে মামলায় পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।