'ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ': ছাত্ররাজনীতিতে নতুন বাঁক,শহীদ মিনার থেকে যাত্রা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
  • ২০২৫-০৫-১০ ০২:০৭:১৮
image

আদর্শে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর আগুন, কণ্ঠে ঐক্য আর চোখে পরিবর্তনের স্বপ্ন-এই প্রতিজ্ঞায় যাত্রা করলো নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)। শুক্রবার (৯ মে) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ব্যতিক্রমধর্মী এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের।

যাত্রা নয়, এক নতুন ধারার জন্ম
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ‘আপ বাংলাদেশ’-এর ৮২ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটির নাম প্রকাশ করেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া ওসমান গাজীর পিতা আব্দুর রহমান। সেখানেই ঘোষণা করা হয় ছাত্রদের এই নবীন উদ্যোগটির নেতৃত্ব।
কমিটির শীর্ষে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলী আহসান জুনায়েদ, আর সদস্যসচিব হয়েছেন আরেফিন মো. হিজবুল্লাহ। মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ শিক্ষাবিদ শাহরিন ইরা, যার ভাষণে উঠে আসে ‘শুধু ছাত্র নয়, জনগণের পক্ষেই এই রাজনৈতিক অভিযাত্রা’।

নেতৃত্বে এক ঝাঁক নতুন মুখ
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি রাজনীতি কেবল প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম নয়, এটি নৈতিক নেতৃত্ব তৈরির মঞ্চ। আপ বাংলাদেশ হবে সেই সাহসী প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, যারা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে না।”
মুখপাত্র শাহরিন ইরা বলেন, “আমরা কোনো দলের ছায়াতলে নই, আমাদের অভিভাবক এদেশের ছাত্র, তরুণ, মেহনতি মানুষ। প্রতিটি শহীদ মিনার, প্রতিটি গণজাগরণ আমাদের শক্তি।”

আংশিক কমিটি,পূর্ণস্বপ্ন
ঘোষিত কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা হলেন:

রাফে সালমান রিফাত (প্রধান সমন্বয়কারী), নাঈম আহমেদ (প্রধান সংগঠক), মোঃ জসিম উদ্দিন, দিলারা খানম, আসমাউল হুসনা, ফারহা জাবিন লিরা, সুলতান মারুফ তালহা, আবরার হামিম, আহমদ করিম চৌধুরী, বদরে আলম শাহিন, মাসুমা বিল্লাহ, মীর শিবগতুল্লাহ তকি, নাহিদা মুসাররাত, আব্দুল্লাহ নাসের, মিনহাজুর রহমান রেজবী প্রমুখ।
কমিটির সদস্য তালিকায় রয়েছে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশা ও অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব। এই ভিন্নতা নিয়েই 'আপ বাংলাদেশ' দাবি করছে, তারা ছাত্ররাজনীতির নতুন ধারা।

‘রাজনীতি নয়, আন্দোলন থেকে রাষ্ট্রদর্শন’
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণজাগরণ থেকে তারা শিখেছেন কিভাবে নেতৃত্বহীনতা কেবল ক্ষোভ জন্মায় না, বরং ভবিষ্যৎ গড়ার পাথেয়ও হয়ে ওঠে। তারা আর কোনো ‘ছাত্রসংগঠনের ছাত্রাবরণ’ হতে চায় না-তারা হতে চায় জনগণের যৌথ রাজনৈতিক উচ্চারণ।

পথচলার পরবর্তী ধাপ
আত্মপ্রকাশের পর সংগঠনটি এক মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে কমিটি ঘোষণা, একটি অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক রূপরেখা প্রকাশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক গণসংলাপ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।

শেষ কথা
বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে বহুদিন পর এমন একটি সমন্বিত ও সাংগঠনিকভাবে স্পষ্ট উদ্যোগ আত্মপ্রকাশ করলো। যেখানে নতুনদের জন্য জায়গা আছে, আছে স্বপ্ন আর আছে একটি ভিন্ন ভাষা-ক্ষমতার নয়, ন্যায়ের রাজনীতি।