‘সন্ত্রাসী দল’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জনপদ। শুক্রবার (৯ মে) রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান নেন ছাত্র-জনতার একটি বড় অংশ। অবশেষে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছাড়ে তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড মোড়ে প্রথমে কয়েক ডজন তরুণ সড়কে জড়ো হয়ে আওয়ামী লীগবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা কয়েকশ’তে পৌঁছায়। আন্দোলনকারীদের মুখে ছিল এক সুর-"স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ চাই, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতেই হবে"।
এই আকস্মিক বিক্ষোভে ঢাকামুখী ও চট্টগ্রামগামী লেনে তৈরি হয় ভয়াবহ যানজট। সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে মদনপুর পর্যন্ত জমে থাকা গাড়ির সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ছিল রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, দূরপাল্লার বাস এবং ব্যক্তিগত গাড়ি। সবচেয়ে বিপাকে পড়েন অসুস্থ ও শিশু যাত্রীরা।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মহানগর ছাত্র শিবিরের সভাপতি আমিত হাসান বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারখানা। জনগণের পক্ষ থেকে এ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের মতো কর্মসূচি শেষ করছি। তবে এই আন্দোলন থামবে না। আগামীকাল ঢাকায় বড় আকারে প্রতিবাদ সমাবেশ হবে।”
বিক্ষোভে উপস্থিত ছাত্র রাকিব খান বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। যারা রাতে ভোট করে, তাদেরকে রাজনীতিতে থাকার অধিকার নেই। আজ সড়ক ছেড়েছি, কাল আবার মাঠে থাকব।”
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম জানান, “তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাইনবোর্ড মোড়ে অবস্থান করছিল ছাত্র-জনতা। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করি। এখন রাস্তায় যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”
বিক্ষোভকারীদের মতে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে দেশের প্রচলিত আইনেই যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। এ দাবিকে সামনে রেখেই পরবর্তী কর্মসূচিগুলোতে সারা দেশের ছাত্র ও তরুণদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তারা।