“দোষারোপ নয়,সম্মিলিত সিদ্ধান্তে চলেছি”-আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে বললেন আইন উপদেষ্টা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-০৯ ১৪:৪৮:০৩
image

ঢাকা, ৯ মে ২০২৫
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। শুক্রবার (৯ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই বক্তব্য দেন।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “আমার নামে কিছু মিথ্যা প্রচারণা চলছে। বিশেষ করে খুনের মামলার আসামি সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিদেশ যাত্রা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে দোষারোপ করা হচ্ছে, যা বাস্তবতা বিবর্জিত।”
তিনি স্পষ্ট করেন, আবদুল হামিদের বিদেশ গমনের বিষয়টি পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার বিষয়—এটা আইন মন্ত্রণালয়ের অধিক্ষেত্রে পড়ে না। তিনি লেখেন, “আমাদের মন্ত্রণালয় শুধু বিচার বিভাগের প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছে, বিমানবন্দর পাহারা দেওয়া বিচারকদের কাজ নয়।”

নিষিদ্ধকরণের খসড়া তিনিই উত্থাপন করেন
আইন উপদেষ্টা জানান, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে আইসিটি আইনে সংশোধনী এনে রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করার বিধান তিনি নিজেই খসড়ায় রেখেছেন এবং তা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উত্থাপনও করেছেন। ফলে এই উদ্যোগে তার বিরোধিতা ছিল-এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
তিনি আরো লেখেন, “আমি যদি নিজেই আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিই, তাহলে কিভাবে সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করব?”

দোষারোপ নয়, দায়িত্ব ভাগাভাগি
উপদেষ্টা পরিষদের কোনো সদস্যকে দোষারোপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনো সিদ্ধান্ত পরিষদের সম্মিলিত। কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে অপপ্রচার না চালিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য নেই, বরং পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা থাকতে পারে।”

আইন সমস্যা নয়, রাজনৈতিক ঐক্য দরকার
ড. আসিফ নজরুল জানান, আইসিটি আইন ছাড়াও সন্ত্রাস দমন আইনের মতো আরও আইনি পথ রয়েছে, যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐকমত্য ও বিচারিক সহায়তা।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করে এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ মেলে, তবে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। ইনশাল্লাহ্।”