আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কিন্তু এই ঘোষণার পরপরই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একে “প্রহসন” বলে আখ্যায়িত করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে, ১১টা ২২ মিনিটে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম লিখেছেন,
“যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নিষিদ্ধ করার প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করতে হবে।”
‘ফয়সালা হবে আজ রাতেই’- হুঁশিয়ারি নাহিদের
আরেক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে টালবাহানা হচ্ছে। আসামিদের জামিন দেওয়া হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি পালিয়ে যাচ্ছেন, বিচার হচ্ছে না। আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল-জুলাইয়ে খুনিদের বিচার। আজ রাতেই ফয়সালা হবে।”
নাহিদ স্পষ্ট করে দেন, আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক নিষিদ্ধকরণ ছাড়া তারা আন্দোলন থামাবে না।
তিনি বলেন, “রাজপথ থেকে আমরা উঠব না। শহিদ পরিবার, আহতদের সবাইকে রাজপথে আসার আহ্বান জানাই।”
নিষিদ্ধ ঘোষণা: সিদ্ধান্ত না নাটক?
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও অনেকেই এটিকে অর্ধেক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। কারণ, মূল দল আওয়ামী লীগের বিষয়ে কোনো পরিষ্কার পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি। ফলে সমালোচকরা বলছেন, সহযোগী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে মূল দলকে রক্ষা করার চেষ্টা চলছে।
একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতা আন্দোলনের পর থেকেই আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। এই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে গঠিত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, এনসিপি এবং অন্যান্য গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন নিষিদ্ধ হলেও কি মূল দলকে বিচারের মুখোমুখি আনা হবে?নাকি এটিই সরকারের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশলী পদক্ষেপ?
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য স্পষ্ট-আংশিক বিচার নয়, পুরো কাঠামো ভেঙে দিতে হবে। “মুজিববাদীরা বাংলার মাটিতে আর কখনো রাজনীতি করতে পারবে না।”
এই ঘোষণায় রাজনীতি যেন আরেক দফা উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দৃষ্টি এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আদৌ কি আওয়ামী লীগের বিচার হবে? নাকি আবারও ‘প্রহসনের’ ভেতরেই ঢাকা পড়বে গণদাবির সুর?