ইসরাইল গাজায় নতুন করে বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর জন্য হাজার হাজার রিজার্ভ সেনা ডেকে পাঠানো হচ্ছে। ইসরাইলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা খুব শিগগির এসব সেনাকে গাজা বা অন্য সীমান্ত এলাকায় পাঠাবে।
এই সেনারা গাজা ছাড়াও লেবানন, পশ্চিম তীর ও সিরিয়া সীমান্তে মোতায়েন হতে পারে। এতে গাজায় সরাসরি আক্রমণ চালানো সহজ হবে বলে মনে করছে ইসরাইল।
সরকার জানাচ্ছে, ২০২৫ সালকে তারা ‘যুদ্ধের বছর’ ঘোষণা করেছে। চার লাখ রিজার্ভ সেনাকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তবে এতে শ্রমবাজারে সংকট দেখা দিচ্ছে। অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আজারবাইজান সফর বাতিল করেছেন। এই সফর বাতিলের পরেই গাজায় হামলা আরও বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা।
রোববারও গাজায় বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন ফিলিস্তিনি।
এর মধ্যে এক হামলায় মারা যায় দুইটি শিশু ও সাতজন নারী।
গাজার দক্ষিণের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে চালানো হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইসরাইলি বাহিনী জানায়, তারা গত দুই দিনে ১০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
তবে সেনাদের মধ্যে ক্লান্তি ও হতাশা বাড়ছে। অনেক রিজার্ভ সেনা নতুন ডিউটি এড়াতে চাইছে।
ইসরাইল ১৮ মার্চ দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর আবারও হামলা শুরু করে।
ফলাফল ভয়ংকর-হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এই নতুন ধাপে ২ হাজার ৪৩৬ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন।
পুরো যুদ্ধজুড়ে মৃতের সংখ্যা ৫২ হাজার ৫৩৫ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৯১ জন।
এছাড়া, ইসরাইল গাজায় সব ধরনের মানবিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা বলছে, এই অবরোধের মাধ্যমে হামাসকে বন্দি মুক্তিতে বাধ্য করা হবে।
তবে জাতিসংঘ বলছে, গাজায় এখন মানবিক বিপর্যয় চলছে। জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও ওষুধ পাঠানো না হলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।