জ্যাঠাইমা বলতো, মানুষ কখনো একা থাকতে পারে না
আমি অবাক হতাম।
বৃষ্টি ভেজা সকালে জানালার সামনে একা বসে বসে প্রকৃতির রূপ,
রস নিংড়ে উপভোগ করতাম
মনের মধ্যে তখন শৈশব খেলা করতো
"বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান"
কে যেন মুগ্ধতা ঢেলে দিতো!
একটু বড়ো বয়সে বুঝলাম প্রেমে পড়লে একা একা থাকতে খুব ইচ্ছে করে
প্রিয় মানুষটার কথা ভাবতে ইচ্ছে করে
হঠাৎ চোখে চোখ রাখা কিংবা একটু স্পর্শের কথা ভাবতে একাকীত্ব লাগে,
নিঃসঙ্গ, নিঝুম দুপুর শুধুই আমার একার
অন্তহীন ভাবনার আকাশে ঘুরে ফিরে বেড়াতো
"ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে?"
তারপর, নশ্বর পৃথিবীতে সবকিছুর মতো প্রেম ভাঙার পালা
পরিযায়ীর বেশে প্রেম উড়ে গেল
মন খারাপি বিকেলগুলো একলা বসে
চিলেকোঠার ঘরে মেঘলা আকাশ দেখতাম
দুঃখ ভোলা চোখ অঝোর ধারায় ঝরিয়ে দিতো শ্রাবণ,
বুকে রিন রিন সুর
"বিরহ মধুর হলো আজি, মধু রাতে
গভীর রাগিনী উঠে বাজি বেদনাতে।"
চড়াই, উৎরাই পার করে সংসারের গণ্ডিতে পা রাখলাম
পরিবার গড়লাম
সন্তানেরা এখন নিজের কাজ নিজেই করতে পারে
সহযোগিতার খুব একটা দরকার হয় না,
আমার এখন একলা হতে খুব ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে নিরালায় বসে বাকিদিনের ছবি আঁকতে,
বয়সের ভার দেখিয়ে দিলো সময় ফুরিয়ে আসছে ক্রমাগত,
রাত নামবে এবার
ভয় এসে ঘিরে ধরলো
আমি কন্ঠে তুলে নিলাম
"আমার হাত ধরে তুমি নিয়ে চলো সখা আমি যে পথ চিনি না"
চমকে উঠি একি! এ কার ভরসায় আমার এই পথ চলা?
এই একাকিত্বের আড়ালে কার পদচারণা?
অন্তরে আপনার ছবি ভেসে উঠলো 'ঠাকুর'
অন্তরে আপনার ছবি ভেসে উঠলো 'ঠাকুর'।