মানবতার কান্না ইনস্টাগ্রামের ওপারে: নিষিদ্ধের ছায়ায় হানিয়া আমির ও ভালোবাসার যুদ্ধ

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৫-০৪ ১৫:০৩:৩৭
image

২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর যখন দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছিল, তখন ভার্চুয়াল জগতে ঘটে যাচ্ছিল এক নীরব বিপ্লব-মানবতার বিপ্লব। সেই বিপ্লবের কেন্দ্রে ছিলেন একজন নরম হৃদয়ের তরুণী-হানিয়া আমির, পাকিস্তানি অভিনেত্রী। এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "শোকের একটাই ভাষা-মানবতা।" কিন্তু সেই মানবতার ভাষা কি আজ হারিয়ে যাচ্ছে নিষেধাজ্ঞার কোলাহলে?

সাহসী মানবিকতা,নিষিদ্ধ প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানি নাগরিক হয়েও ভারতের মাটিতে ঘটে যাওয়া একটি ট্র্যাজেডির পাশে দাঁড়ান হানিয়া। কোনো রাজনৈতিক জবাবদিহি নয়, শুধু হৃদয়ের ভাষায় তিনি বলেন-"নিরীহ প্রাণের যন্ত্রণার কোনো সীমান্ত হয় না।"
এই এক বক্তব্য যেন হয়ে দাঁড়ায় মানবিকতার এক প্রতীক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তার এই সহমর্মিতা ধাক্কা খায় রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়ার প্রাচীরে। ভারতে পাক শিল্পীদের নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ তার হাজারো ভারতীয় ভক্ত তখনো প্রিয় শিল্পীর মুখপানে তাকিয়ে ছিলেন আশার চোখে।

যে ভালোবাসার জবাব হয় না নিষেধে
ইনস্টাগ্রাম বন্ধ? ভক্তরা থেমে যাননি। প্রযুক্তির কাছে হার মানেনি ভালোবাসা। ভিপিএন প্রযুক্তির সাহায্যে তারা আবারও পৌঁছে যান হানিয়ার প্রোফাইলে। সেখানে এক অনুরাগীর কমেন্ট-"আপনার কথা খুব মনে পড়ছে। আপনি ভালো আছেন তো?" অন্য একজন লিখেছেন-"আপনাকে দেখতে ভিপিএন কিনেছি!"
এই দৃশ্য যেন হয়ে ওঠে এক নিঃশব্দ প্রতিবাদ-নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্র দেয়, কিন্তু ভালোবাসা দেয় মানুষ।

এক কান্না,দুই দেশ
যখন হানিয়া বলেন, “আমি কিন্তু এবার কেঁদে ফেলব,” তখন সেটি ছিল কেবলই এক সেলিব্রিটির সংবেদন নয়-তা ছিল একটি মহাদেশব্যাপী রুদ্ধ মানবিক স্রোতের প্রতিধ্বনি। দুই দেশের রাজনীতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা কি সীমান্ত মানে?
এই কান্না কেবল হানিয়ার নয়, এটি সেই অনুরাগীদের কান্না যারা শিল্পকে রাজনীতির বাইরে দেখতে চায়। যারা মনে করে, শিল্পীর হৃদয় থাকুক মুক্ত-যার ভাষা হোক মানবতা, তার রঙ হোক অনুভব।

সময়ের আয়নায় প্রশ্ন
আজ যখন রাষ্ট্রসমূহ নিজেদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করায়, তখন এই প্রশ্ন তোলা জরুরি-মানবতা কি রাজনীতির নিচে চাপা পড়বে? হানিয়া আমিরের মতো একজন তারকা যখন নিঃসংকোচে শোক প্রকাশ করেন, সেটি কি নিষিদ্ধ করার জবাব নয় বরং সাহসিকতার উদাহরণ?
ভারতের অনেকেই আজ সেই সাহসিকতার পাশে দাঁড়াচ্ছেন। কেউ লিখছেন, "রাজনীতি পরে আসুক, আগে মানুষ হই।" কেউ আবার বলছেন, "শিল্পীর কণ্ঠরোধ নয়, তার বেদনাকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত।"

শেষ কথা-
হানিয়া আমিরের ইনস্টাগ্রাম হয়তো এখন ভারতে বন্ধ, কিন্তু মানুষের ভালোবাসার নেটওয়ার্কে তা আগের চেয়েও বেশি সংযুক্ত।
সীমান্তে যদি বেড়া হয়, হৃদয়ের পথে যদি জট থাকে-তবু ভালোবাসা ঠিকই পথ খুঁজে নেয়। কারণ, শোকের কোনো পাসপোর্ট লাগে না।