প্রেমের নাম মুনির: পাকিস্তানি নারীকে বিয়ে করে চাকরি হারালেন সিআরপিএফ জওয়ান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৫-০৪ ১৩:২৪:৪১
image

ভালোবাসা কখনো সীমান্ত মানে না-তবে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ঠিকই গণ্ডি টানে। পাকিস্তানি তরুণীকে গোপনে বিয়ে করে সেই বাস্তবতাই মুখোমুখি হলেন ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর সদস্য মুনির আহমেদ। নিয়োগের সাত বছর পর ভালোবাসার দায়ে চাকরি গেল তার। যদিও মুনির দাবি করছেন-সবই হয়েছে নিয়ম মেনেই, তার হাতে আছে অনুমতির প্রমাণও। তবে সিআরপিএফ বলছে ভিন্ন কথা।
ঘটনার শুরু জম্মু অঞ্চলের ঘারোটা এলাকার মুনির আহমেদের একটি অনলাইন প্রেম থেকে। ২০২৪ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সিয়ালকোটের বাসিন্দা মিনাল খানের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গাঢ় হয়, অনলাইনেই সম্পন্ন হয় নিকাহ্। এরপর নানা আইনি জটিলতা পেরিয়ে মিনাল স্বল্পমেয়াদি ভিসায় এ বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে আসেন।
এ পর্যন্ত সবই ছিল প্রেমকথার মতো। কিন্তু সিআরপিএফের নিয়ম বলছে, বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করতে হলে বাহিনীর সদর দপ্তরের লিখিত অনুমতি লাগবে। মুনিরের দাবি, তিনি সেই আবেদন করেছিলেন এবং অনুমতিও পেয়েছিলেন। কিন্তু বাহিনীর দপ্তরের বক্তব্য, কেবল আবেদন জমা পড়েছিল, অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তার আগেই গোপনে বিয়ে সম্পন্ন করেন মুনির, যা গোপন রাখায় সংস্থার বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
আরও বিপত্তি ঘটে যখন মিনালের ভিসার মেয়াদ ২২ মার্চ শেষ হয়, কিন্তু তিনি দেশে ফেরেননি। এই ঘটনায় কেন্দ্র যখন পেহেলগাম কাণ্ডের পর পাকিস্তানি নাগরিকদের তড়িঘড়ি করে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়, তখনই প্রকাশ্যে আসে সিআরপিএফ সদস্য মুনিরের ‘গোপন বিবাহ’ কাহিনি।
সিআরপিএফ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ ও তথ্য গোপন করার’ অভিযোগে মুনিরকে বাহিনী থেকে বরখাস্ত করে। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, “একাধিক প্রশাসনিক ব্যত্যয়ের প্রমাণ মিলেছে, যা বাহিনীর নীতির পরিপন্থী।”
তবে এখানেই থেমে থাকেননি মুনির। স্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর সরকারি নির্দেশ আটকাতে তিনি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। আদালত আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আগামী ১৪ মে মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মুনিরের দাবি, “আমি নিয়ম মেনেই বিয়ে করেছি, দপ্তরে আবেদন জমা দিয়েছিলাম। তারা এখন বলছে, আমি অনুমতি পাইনি-কিন্তু আমার কাছে তার রেকর্ড আছে। আমি আমার চাকরি ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হব।”
এদিকে, সীমান্তের দুই প্রান্তে এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা। কেউ বলছেন, এটি নিরাপত্তা ঝুঁকি, আবার কেউ দেখছেন এটি নিষিদ্ধ প্রেমের বলি এক সৈনিকের গল্প।
সীমান্তে প্রহরারত এক জওয়ানের জীবনে প্রেম ও কর্তব্যের সংঘর্ষ কতটা কঠিন হতে পারে-মুনির আহমেদের কাহিনি তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।