চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের সুধী সমাবেশে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের সাবেক সহকারী কমান্ডার (সাংগঠনিক) মো:তরিকুল আলমকে বক্তব্য দেবার সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি লতিফুর রহমান বাধা দিয়ে থামিয়ে দিয়েছেন অভিযোগ ও দাবি করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। এই ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভাও করেছেন তাঁরা। শনিবার (৩মে) সকালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ড এবং সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডারের পক্ষে তাঁর স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক সহাকরী কমান্ডার (সাংগঠনিক) তরিকুল আলম। বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল জেলা শহরের শহীদ সাটু অডিটোরিয়োমে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে পুলিশ আয়োজিত ওই সুধী সামবেশে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল আলম। সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান,জেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ,অনান্য দলের নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মারফৎ জানা যায়,বক্তব্য দিতে গিয়ে তরিকুল আলম ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টকে না মেলানোর আহব্বান জানান। এ সময় সামনের সারিতে বসা লতিফুর রহমান উত্তেজিত হয়ে আঙ্গুল উঁচিয়ে তরিকুল আলমের দিকে তেড়ে যান। তিনি চিৎকার করে প্রতিবাদ জানিয়ে জোরপূর্বক বক্তব্য বন্ধ করতে বাধ্য করেন। এ অবস্থায় তরিকুল আলম তাঁর বক্তব্য শেষ করার অনুরোধ জানালেও শেষ পর্যন্ত বক্তব্য দিতে পারেন নি। এর পরপরই ডিআইজিকে বিষয়টি জানিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে জেলা কমান্ডার আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের জানাতে চাই ‘মুক্তিযুদ্ধ ও অভ্যূথ্ান এক নয়’। সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে জেলা পুলিশ আয়োজিত সুধী সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি এমন এরুপ বিরুপ আচরণ ও কটক্ষের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহব্বান জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে যেন এমন না সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবার আহব্বান জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার জয়নাল আবেদীন,জেলা বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় একশত মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জামায়াত নেতা লতিফুর রহমান তাঁর রিুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি তাঁকে বাধা দেই নি। আমি এবং উপস্থিত বিএনপি নেতারা,ছাত্র-জনতাও তাঁকে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে বলেছেন। বলেছি এটি রাজনৈতিক মঞ্চ নয়।