শ্রদ্ধাঞ্জলি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৫-০২ ১৫:২৯:২৯
image

বাঙালি মুসলিম মহিলা কবিদের অন্যতম কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা। 
উনিশ শতকের শুরুর দিকে বাংলার মুসলিম নারী কবিদের মধ্যে ইতিহাসে যাঁরা অমরত্ব লাভ করেছেন কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা তাঁদের মধ্যে অন্যতম যিনি সরাসরি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন।
মাহমুদা খাতুন ধার্মিক হওয়া সত্বেও কুসংস্কার, অশিক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন সব সময়।
মুসলিম বাঙালি মহিলা কবিদের মধ্যে তিনিই প্রথম সনেট ও গদ্য ছন্দে কবিতা লিখেছেন। 
আজ থেকে প্রায় ৮৫ বছর আগে মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'পসারিণী' প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর 'পরশমনি' কাব্যগ্রন্থের পূর্বে আর কোন বাঙালি মুসলিম মহিলা কবির কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি।
    জন্ম ১৯০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর 
                 পাবনা শহরে
তাঁর পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়া জেলার নিয়াজতবাড়ি গ্রামে। পিতার নাম খান বাহাদুর মুহম্মদ সোলায়মান। তিনি ছিলেন ডিভিশনাল স্কুল ইন্সপেক্টর।
পিতার চাকুরির সুবাদে তিনি রাজশাহী মিশন স্কুল, বরিশাল ও পাবনায় শিক্ষা লাভ করেন। তবে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শেষ ধাপ ছিলো ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত।
রাজশাহী মিশনারী স্কুলে পড়ার সময় তাঁর গৃহ শিক্ষক ছিলেন 'আনোয়ারা' উপন্যাসের প্রখ্যাত লেখক মোহাম্মদ নজিবর রহমান।
১৯২৮ সালে মাহমুদা খাতুন হাইজিন এবং রন্ধন প্রণালীতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন।
ছবি আঁকা ও সঙ্গীতের প্রতিও ছিলো তাঁর বিশেষ ঝোঁক। 
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কালজয়ী কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথে ছিলো তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়।
১৯৩৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কলকাতার এলবার্ট হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের পক্ষ থেকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'ডক্টর অফ লিটারেচার' উপাধি দেওয়া উপলক্ষে যশোর সাহিত্য সংঘ কর্তৃক দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মান পত্রটি পাঠ করেছিলেন কবি মাহমুদা খাতুন। 
এ ছাড়াও ১৯৩৭ সালে তিনি কলকাতা সাহিত্য সম্মেলনে যোগদান করেন।
কবি মাহমুদা খাতুন অল্প বয়স থেকেই বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় কবিতা লিখে পরিচিতি লাভ করেন। এসময় পত্রপত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতে থাকলে অত্যন্ত অল্প সময়েই তাঁর কবি প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে।
প্রকৃতির রূপবৈচিত্র তাঁর কবিতায় প্রানের স্পর্শ লাভ করেছে। পশারিণী, মন ও মৃত্তিকা এবং অরন্যের সুর তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
তাঁর কবিতায় মানুষের সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনার আন্তরিক প্রকাশ ঘটেছে। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি ১৯৬৭ সালে তাঁকে সাহিত্য পুরস্কার এবং ১৯৭৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে।
কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকাকে বর্তমান প্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে 'যুক্ত' প্রকাশ করেছে 'নির্বাচিত কবিতা সংকলন'।
১৯৭৭ সালের ২ মে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।