হয়রানিমূলক মামলার প্রবণতা দুর্ভাগ্যজনক: আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৪-২৯ ০১:১১:০২
image

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও হয়রানিমূলক প্রবণতা বেড়েছে। জমি-বাড়ি বা ব্যবসা দখলের উদ্দেশ্যে অপব্যবহার হচ্ছে মামলার সুযোগ। সরকার পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের আইনে মামলা করার ক্ষেত্রে কোনো নিরুৎসাহ বা নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে অনেক সময় ব্যক্তি স্বার্থে হয়রানিমূলক, বিদ্বেষপ্রসূত মামলা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।"
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “কেউ মামলা করলে তদন্তের দায়িত্ব পড়ে পুলিশের ওপর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—যেখানে অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, সেখানে যেন কাউকে গ্রেপ্তার না করা হয়। পাশাপাশি আদালতও বস্তুনিষ্ঠতা বিবেচনায় বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিকার দিয়ে যাচ্ছেন।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ইরেশ যাকেরসহ কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের মামলার পেছনের কারিগরদের খুঁজে বের করুন। যদি দেখা যায় তারা প্রতিহিংসা, চাঁদাবাজি বা জমি-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে মামলা করছেন, তাহলে তাদের পরিচয় জনগণের সামনে প্রকাশ করুন।”
প্রসঙ্গত, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিচার ব্যবস্থায় সময় ও খরচ কমাতে নানা সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধিতে যুগান্তকারী সংশোধন করা হয়েছে, যা নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে এবং শিগগির চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধিতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।
বর্তমানে দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মামলা দায়ের হয়। অথচ জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার মাধ্যমে মাত্র ৩৫ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে। আসিফ নজরুল আশা প্রকাশ করেন, এই সংস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর দুই লাখ মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলে দেশের বিচার ব্যবস্থায় মামলার চাপ ৪০ শতাংশ কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার পরিচালক সৈয়দ আজাদ সুবহানী।
অনুষ্ঠানে সেরা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সেরা প্যানেল আইনজীবীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন আইন উপদেষ্টা।