শেখ হাসিনার বিচার শিগগিরই শুরু হবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৪-২৮ ১৬:২৪:৪১
image

বাংলাদেশের জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার চলতি মাসের শেষদিকে অথবা আগামী মাসের শুরুতেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার (২৭ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বিশ্বনেতাদের নিয়ে সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠান ‘টক টু আলজাজিরা’-তে ‘মুহাম্মদ ইউনূস : রিয়েল রিফর্ম অর জাস্ট আ নিউ রুলিং ক্লাস ইন বাংলাদেশ?’ শিরোনামে প্রকাশিত এক দীর্ঘ আলাপে তিনি এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, “জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের নেতৃত্বে ইতোমধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়েছে। আমরা খুশি যে, নতুন করে আলাদা তদন্ত করতে হয়নি। তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিস্তারিত নথি রয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠবে।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, বিচার প্রক্রিয়ার জন্য জাতিসংঘের প্রতিবেদন ছাড়াও সরকারের নিজস্ব তদন্ত ও তথ্যভান্ডার প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, "এখন আমাদের আইনি প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়েছে। সম্ভবত এ মাসের শেষ বা আগামী মাসের প্রথমেই আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে। যারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত, কেউই ছাড় পাবে না।"
আলোচনায় বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়েও দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেন ড. ইউনূস। তিনি জানান, ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং রূপান্তরমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “যদি প্রয়োজনীয় সংস্কারের তালিকা ছোট হয়, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হবে। আর যদি বৃহৎ পরিসরের সংস্কার প্রয়োজন হয়, তবে নির্বাচন ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।”
আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। “দলটি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়াও বিবেচ্য হবে,” যোগ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে নানা অভিযোগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বিচার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানালেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।