সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানালেন ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়ার লিনা রিক্কিলা তামাং

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৪-২৮ ০১:১০:২২
image

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে রূপান্তরমূলক ভূমিকা রাখে-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া)-এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লিনা রিক্কিলা তামাং।
রোববার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্যে রিক্কিলা তামাং বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ আজ একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা আশা করি, এই নির্বাচন বাস্তবিকই গণতন্ত্রের ভিত্তি পুনর্নিমাণের দিকে এগিয়ে যাবে।"
তিনি জানান, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, "আমরা বুঝেছি, নির্বাচন কমিশন বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই কাজ করছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এখনো প্রয়োজন, যা আগামী নির্বাচন আয়োজনের আগে সম্পন্ন করা যেতে পারে।"
লিনা রিক্কিলা তামাং আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ অনেকটাই নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর। তাঁর ভাষায়, "রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া কোনো টেকসই নির্বাচন সম্ভব নয়। সকল দলকে একমত হয়ে এগোতে হবে।"
তিনি জানান, জুলাই মাসে যে জাতীয় ঐকমত্য সনদ ঘোষণা হবে, সেটির ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচন কমিশন পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এদিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে চলমান নির্বাচনী সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। জানা গেছে, নির্বাচন আইন সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত কমিশন ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েছে। ৩৯টি দলের মধ্যে ৩৫টি ইতিবাচকভাবে মতামত দিয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি দলের সঙ্গে সরাসরি সংলাপও শেষ হয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন আয়োজনে পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়ে গেছে। বিএনপি ও তার মিত্ররা চাইছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হোক। অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক দল বলছে, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার নিশ্চিত করার পরই ভোটের আয়োজন করা উচিত।
সবমিলিয়ে, চলমান প্রক্রিয়ার সাফল্য এখন নির্ভর করছে রাজনৈতিক ঐক্যমত্য এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছ প্রস্তুতির ওপর-এমন আভাসই পাওয়া গেছে লিনা রিক্কিলা তামাংয়ের মন্তব্য থেকে।