চাপের মুখে কুয়েট প্রশাসনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন: আজই খুলছে আবাসিক হল

  • খুলনা প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৪-২৩ ১৫:৫১:০৩
image

টানা আন্দোলন, হলের তালা ভাঙা এবং খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের রাত কাটানোর প্রেক্ষিতে অবশেষে সিদ্ধান্ত বদলেছে কুয়েট প্রশাসন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ২ মে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খুলছে আজ (বুধবার) বিকালেই।
বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১০২তম জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আনিছুর রহমান ভূঞা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে প্রশাসনের পিছু হটা
এর আগে ১৪ এপ্রিলের ১০১তম সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ২ মে আবাসিক হল খোলা হবে এবং ৪ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন, হল দখল এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছিল না। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই হলে প্রবেশ করে ফেলেছেন। সবার নিরাপত্তা বিবেচনায় দ্রুত হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: তালা ভাঙা ও হল দখল
১৩ এপ্রিল থেকে হল খোলার দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে বিক্ষোভ করে।
১৫ এপ্রিল গভীর রাতে ছাত্ররা ছয়টি আবাসিক হলের তালা ভেঙে হলে প্রবেশ করে। একদিন পর ছাত্রীরাও একই কৌশলে হলে প্রবেশ করেন। বর্তমানে সব হলেই শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন।
একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলাম, অথচ আমাদের দাবির প্রতি প্রশাসনের ছিলো অবজ্ঞা। তাই বাধ্য হয়েই হলে ঢুকতে হয়েছে।”

প্রশাসনের সংকেত: পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। আজকের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখেই পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই হল খুলে দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিঠু মিয়া বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। আমরা চাই সবকিছু আবার আগের মতো স্বাভাবিক হোক।”
এই ঘটনা কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও চাপ প্রয়োগের শক্ত প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের সাংগঠনিক চাপ যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করাতে সক্ষম—এই উদাহরণ আবারও তা প্রমাণ করল।