বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান অধ্যাপক ইউনূসের: “সম্ভাবনার এক অনন্য ভূমি”

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৪-২৩ ১২:৪২:৩৭
image

বাংলাদেশকে “অবিশ্বাস্য সম্ভাবনার দেশ” হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে খোলা ডাক দিয়েছেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক শিল্প ও প্রযুক্তি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দোহায় আয়োজিত একটি আর্থিক সম্মেলনের প্রান্তিক এক বেসরকারি ব্যবসায়িক সংবর্ধনায় এ আহ্বান জানান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।”

বাংলাদেশ: প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যত কেন্দ্র
অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, “নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো সমুদ্রবন্দরের অভাবে বিচ্ছিন্ন-যেখানে বাংলাদেশ হতে পারে তাদের প্রবেশদ্বার। আর আমাদের দেশের তরুণরা প্রযুক্তিতে পারদর্শী। এই দুই সম্ভাবনার সমন্বয়ে বাংলাদেশ হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার পরবর্তী উদীয়মান অর্থনৈতিক কেন্দ্র।”
তিনি বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা বাংলাদেশকে নতুন বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করেন এবং তাদের উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তর করেন। এ সময় তিনি বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন, যা তার অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করছে।

“সবচেয়ে বড় সম্পদ-তরুণ জনগোষ্ঠী”
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। প্রায় ১৮ কোটি মানুষ আমাদের এই ক্ষুদ্র ভূমিতে বসবাস করছে, যার অর্ধেকের বয়স ৩৭ বছরের নিচে। এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তিনি এটিও বলেন, “তাদের হাতে প্রযুক্তি, চিন্তা, উদ্যোগ এবং পরিবর্তন আনার সাহস রয়েছে। শুধু একটি পরিবেশ দরকার-যেখানে তারা সুযোগ পাবে।”

উন্নয়নের রূপরেখা ও সংস্কার অভিযান
অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সংস্কার প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক খাতে এক নতুন গতি সঞ্চার করেছি। এই সংস্কার কার্যক্রম আগের ১৬ বছরের অনিয়ম আর স্থবিরতার অবসান ঘটিয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা গত মাসে এক বৈশ্বিক বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন করেছি, যেখানে সাড়া পেয়েছি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। এটি আমাদের প্রতি আস্থার বড় প্রমাণ।”

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গুরুত্ব
এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, এসডিজি সচিব লামিয়া মোরশেদ ও জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
অধ্যাপক ইউনূসের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনের অঙ্গীকারকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।