গাজায় ‘অবসান চুক্তি’র প্রস্তাব: যুদ্ধ থামিয়ে বন্দিমুক্তির নতুন পথ?

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৪-২২ ২১:৪১:৩৯
image

২২ এপ্রিল, ২০২৫
গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফেরাতে কাতার ও মিসর নতুন এক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে সব ফিলিস্তিনি বন্দিমুক্তি, গাজা থেকে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে-এমনটাই জানালেন আলোচনার সঙ্গে জড়িত এক শীর্ষ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা।
প্রস্তাবিত এ চুক্তি ৫ থেকে ৭ বছর মেয়াদি একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির রূপরেখা, যা যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমবারের মতো এমন স্পষ্ট শর্তে উত্থাপিত হলো।
হামাসের পক্ষ থেকে কায়রোতে আলোচনায় অংশ নিতে রওনা হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে, ইসরায়েল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে মঙ্গলবারও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ২৬ জন ফিলিস্তিনি, আহত ৬০ জনের বেশি। ধ্বংস হয়েছে হামাস-পরিচালিত উদ্ধার ও রাস্তা মেরামতের যন্ত্রপাতি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা হামলা চালিয়েছে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত’ প্রায় ৪০টি ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্রে। পাশাপাশি রাফার কিছু এলাকায় ট্যাংকের গতি আবারও দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, হামাসের অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। তারা বলেছে, গাজার শাসন কোনো ‘জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ’-এর হাতে দিতে প্রস্তুত, যা হতে পারে ফিলিস্তিনি অথরিটি (PA) কিংবা নতুন কোনো প্রশাসনিক কাঠামো। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই প্রস্তাব আগেই নাকচ করেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো-এই আলোচনার ফল কী হবে?
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রস্তাব হামাসের অভূতপূর্ব নমনীয়তা এবং ইসরায়েলের সামনে রাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ-উভয়ই সামনে নিয়ে এসেছে। বাস্তবতা হলো, একই যুদ্ধ দুই ভিন্ন জেদে আটকে আছে, আর সেই লড়াইয়ের মাঝখানে পড়ে গেছে লাখো নিরপরাধ মানুষ।