“তরুণদের পেছনে ফেলে যাওয়া নয়,তাদের সঙ্গেই গড়তে হবে ভবিষ্যৎ” -কাতারে প্রধান উপদেষ্টা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৪-২২ ১৩:০৭:৩৮
image

দোহা, কাতার | ২২ এপ্রিল ২০২৫ |

বিশ্ব যখন একাধিক সংকটে জর্জরিত-জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, প্রযুক্তির দায়িত্বহীন ব্যবহার-তখন ভবিষ্যতের পৃথিবী নিয়ে আশাবাদী বার্তা দিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
কাতারের দোহায় আয়োজিত "আর্থনা সামিট ২০২৫"–এ মঙ্গলবার দেওয়া এক আন্তরিক ও প্রগতিশীল বক্তব্যে তিনি বলেন,
“আমাদের এমন একটি পৃথিবী রেখে যেতে হবে, যা হবে সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল, সবুজ এবং টেকসই-একটি জ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ওপর দাঁড়ানো ভবিষ্যৎ।”
তিনি আরও বলেন, এই ভবিষ্যৎ কেবল কাগুজে পরিকল্পনায় নয়, তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত হতে হবে।
“আজকের তরুণদের পেছনে ফেলে আসা উচিত নয়। বরং আমি তাদের মধ্যে রূপান্তরমূলক শক্তি দেখেছি, যারা নাগরিক জাগরণ এবং সমাজকে বদলানোর ক্ষমতা রাখে।”

লাল গালিচায় কূটনৈতিক সম্মান
দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে কাতার সরকারের প্রটোকল প্রধান ও রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম ফাখরু তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনায় অভ্যর্থনা জানান। এটি কেবল একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানানো নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক উপস্থিতিরও গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।
প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, এই সফরটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির আমন্ত্রণে, এবং সামিট ছাড়াও আমিরের সঙ্গে ইউনূসের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হতে পারে।

যে বার্তা রেখে গেলেন ইউনূস
আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের উপস্থিতিতে দেওয়া ইউনূসের বক্তব্যটি শুধু ভবিষ্যতের কথা নয়, এটি ছিল একটি জবাবদিহিমূলক আহ্বান। রাজনৈতিক ও কর্পোরেট সিদ্ধান্তগুলো যেন এমন ভবিষ্যতের পথে বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায়-এই দাবি করেন তিনি।
“আমরা যদি এমন একটি পৃথিবী না গড়ি, যেখানে তরুণরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়, তাহলে সেই পৃথিবী স্থায়ী হতে পারে না,” -বলেন তিনি।

সামিটে ইউনূসের কণ্ঠে উঠে এসেছে এমন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন-যেখানে জ্ঞান ও মানবিকতা পাশাপাশি হাঁটে, প্রযুক্তি হয় দায়বদ্ধ, আর নেতৃত্ব আসে তরুণ প্রজন্মের মগজ থেকে, ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নয়। এই পৃথিবী একা কেউ গড়তে পারবে না-এটি গড়তে হবে সবাই মিলে, একসঙ্গে।