ঢাকা, ২০ এপ্রিল ২০২৫
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে অংশ নিয়ে একাধিক সংস্কার প্রস্তাবকে 'গঠনমূলক' বলে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। তবে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবসহ কিছু বিষয় নিয়ে দলটি স্পষ্টভাবে দ্বিমত জানিয়েছে।
রোববার সংসদ ভবনের এলডি হলে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে বিএনপির ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। বিরতিতে সংবাদকর্মীদের তিনি বলেন,
“রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন একটি কৌশলগত ও ঐতিহাসিক প্রশ্ন। আমাদের আপত্তি এখানেই—রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের পরিবর্তন নয়, বরং কার্যকর কাঠামোর দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।”
যেখানে একমত: নারী অংশগ্রহণ, মৌলিক অধিকার ও বহুত্ববাদ
নারীর আসন:
বিএনপি সংসদে সংরক্ষিত নারীর আসন ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাবে একমত হয়েছে, তবে বাস্তবায়ন হবে ১৩তম জাতীয় সংসদ থেকে।
মৌলিক অধিকার:
ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নেয় বিএনপি।
বহুত্ববাদ:
সংবিধানে বহুত্ববাদ সংযোজন এবং ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার’—এই মূলনীতিগুলো নিয়ে দলটির কোনও আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়।
যেখানে ভিন্নমত: নাম, বয়স ও কেয়ারটেকার ইস্যু
রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন:
এই প্রস্তাবকে বিএনপি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রার্থী হওয়ার বয়সসীমা:
২১ বছর করার প্রস্তাবে বিএনপির আপত্তি।
নির্বাচনকালীন সরকার:
কেয়ারটেকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়—এই অবস্থানে অনড় বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে “ডকট্রিন অব নেসেসিটি”-র প্রয়োগের যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে।
সংবিধান ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি
বিএনপি চায়, সংসদীয় কাঠামোতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত থাকুক, তবে এনসিসি কাঠামোতে প্রধানমন্ত্রীকে দুর্বল করে ফেলা উচিত নয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “সরকারপ্রধান ও দলপ্রধান একই ব্যক্তি হবেন কি না, তা দলগুলো নিজেরাই নির্ধারণ করুক—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
বিশ্লেষণ: সংলাপের মাঝেও সাংবিধানিক দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত
ঐকমত্য সংলাপে অংশগ্রহণ করেও বিএনপির পক্ষ থেকে মৌলিক রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে দ্বিধা ও দ্বন্দ্বের বার্তা স্পষ্ট। একদিকে ‘প্রগতিশীল সংস্কার’-এর প্রতি ইতিবাচকতা, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও নির্বাচনকালীন ক্ষমতা কাঠামো নিয়ে সতর্ক অবস্থান—এই দ্বৈত বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনের আলোচনা হবে আরও জটিল, কিন্তু একই সঙ্গে তা রাজনৈতিক পুনঃআলোকপাতের সুযোগও তৈরি করছে।