ইস্টারের আহ্বানে 'অস্ত্রবিরতি':ইউক্রেনে পুতিনের নতুন বার্তা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৪-১৯ ২২:১৪:৩২
image

 ১৯ এপ্রিল
ঈশ্বরের নামে এবার থেমে যাচ্ছে কামানের গর্জন।
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র উৎসব ইস্টার উপলক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে সাময়িক বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—যাকে অনেকেই দেখছেন যুদ্ধের মাঝে বিরল এক কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে।

আধ্যাত্মিক উপলক্ষে 'অস্ত্র বিশ্রাম'
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তর ক্রেমলিন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার (২১ এপ্রিল) রাত ১২টা পর্যন্ত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনী সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে।
এই সময়টাকে "মানবিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা" হিসেবে উল্লেখ করেছেন পুতিন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন—“যুদ্ধবিরতি একতরফা নয়। যদি ইউক্রেন পক্ষ উসকানি দেয়, রুশ সেনারা প্রস্তুত থাকবে উপযুক্ত জবাব দিতে।”

শান্তির প্রস্তাব,না কৌশলের চাল?
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেবে না ঠিকই, তবে এটি পশ্চিমা কূটনীতিকদের জন্য একটি বার্তা-রাশিয়া আলোচনার পথ বন্ধ করে দেয়নি।
বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুসারে, পুতিন নিজে তার বাহিনীকে ‘স্পষ্ট নির্দেশ’ দিয়েছেন ইস্টার উপলক্ষে সব সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখতে। এতে সাময়িক স্বস্তি পেতে পারে যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগণ, বিশেষত যেসব অঞ্চলে ধর্মীয় উৎসব পালনের প্রস্তুতি ছিল।

পটভূমি: এক যুদ্ধে তিন বছর
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে কিয়েভ দখলচেষ্টা ব্যর্থ হলে মস্কোর দৃষ্টি ঘুরে যায় পূর্বাঞ্চলের লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলের দিকে। এখন পর্যন্ত এসব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে।

 ইস্টার কি এনে দেবে আলোচনা?
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি হয়তো শান্তিপূর্ণ সমঝোতার পথ তৈরির একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। আবার অনেকে বলছেন, এটি মূলত আন্তর্জাতিক চাপ প্রশমনের একটি কৌশল।

কী হবে এই ‘ইস্টার বিরতির’ ফলাফল-তা সময়ই বলবে। তবে যুদ্ধের বিবর্ণ আকাশে এক মুহূর্তের জন্য হলেও শান্তির রং লাগাতে হয়তো এ উদ্যোগ যথেষ্ট।