দুর্ধর্ষ এক নাটকের শেষে বিজয়ীর হাসি হাসল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সমীকরণের হিসাব এতটাই সূক্ষ্ম ছিল যে শেষ বলের ছক্কাতেও রক্ষা পেল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মারলেন ছক্কা, জিতলেন ম্যাচ, তবুও হার মানতে হলো বিশ্বকাপের দৌড়ে। কারণ, খেলা শুধু মাঠে নয়, খেলা এখন রানরেটের ক্যালকুলেটরেও।
ম্যাচ জিতেও বিশ্বকাপ হার-এটাই ক্রিকেট!
থাইল্যান্ডকে ১৬৬ রানে অলআউট করার পরই বাংলাদেশের জন্য তৈরি হয় এক সম্ভাবনার দ্বার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে তখন চ্যালেঞ্জ-১৬৭ রান তুলতে হবে মাত্র ১০ ওভারে, তবেই তাদের বিশ্বকাপে যাওয়ার রাস্তা খোলা থাকবে।
ক্যারিবীয় দলও দাঁড়িয়ে থাকেনি। অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউসের ৭০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, সঙ্গে শিনিলে হেনরির ১৭ বলে ৪৮ রানের বিধ্বংসী ঝড়! কিন্তু তবু…শেষটা হয়ে গেল হতাশার। ম্যাচ জিতেছে ১০.৫ ওভারে, কিন্তু তাতেও নেট রানরেটে ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশের পয়েন্ট।
রানরেটের মাইক্রো লড়াইয়ে বাঘিনীদের বড় জয়
এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশের নেট রানরেট ছিল ০.৬৩৯। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের -০.২৮৬। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ভয়ঙ্কর মারকাটারি জয়ের পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানরেট গিয়ে দাঁড়ায় মাত্র ০.৬২৬। বাংলাদেশের তুলনায় চুল পরিমাণ কম। আর তাতেই ভাগ্যের কাঁটা হেলে পড়ে টাইগ্রেসদের পক্ষে।
বিশ্বকাপের টিকিট পেল বাংলাদেশ, বিদায় ক্যারিবীয়রা
৮ দলের ওডিআই বিশ্বকাপ খেলবে ভারতে। স্বাগতিক ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা আগেই জায়গা নিশ্চিত করেছিল। কোয়ালিফায়ারে বাকি দুই সিটের লড়াইয়ে বাজিমাত করেছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।
ক্রিকেট শুধু খেলার নাম নয়-এটা আবেগ, হিসাব আর অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প!
এই ম্যাচ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থাকবে একটি পাঠ হিসেবে-ম্যাচ জেতা মানেই সব জয় নয়। কখনো কখনো সঠিক সময়ে সঠিক রানই হয়ে দাঁড়ায় ইতিহাস গড়ার নিয়ামক। আর বাংলাদেশের মেয়েরা সেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে যোগ্যতা, কৌশল আর সাহসিকতার সম্মিলনে।