৷৷ নিশ্চয়তা মানুষকে অলসতরথেকে অলসতর করে তোলে।
আমার জীবনে যা কিছু অর্জন তা চরম অনিশ্চিতয়তা থেকেই।।
শিক্ষক হিসেবে জন্ম
তখন আমি দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত বেকার এক যুবক। রাবির একজন দয়াশীল শিক্ষক একটি প্রাইভেট একটি স্কুলে লাগিয়ে দিলেন। যদিও সামান্য বেতন। তবুও দুবছর না যেতেই ঠুনকো অজুহাতে চাকরি থেকে বের করে দিল। আবার বেকার হয়ে পড়লাম।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সান্ধকালিন আব্বা একটা নৈশ বিদ্যালয় চালাতেন। নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন স্কুলটি বন্ধ ছিল। সেটাই আবার চালু করলাম।
পরের বছর প্রাইমারি স্কুলের সাথেই সি এন্ড বির জায়গা ভরাট করে কাঠের বেড়া উপরে টিন দিয়ে শ্রেণিকক্ষ তৈরী করে ৯১ সালের প্রথম দিন মির্জাপুর জুনিয়র স্কুল চালু করলাম। শুরু হল অমানুষিক সংগ্রাম। জমি সংগ্রহ করা, ফান্ড সংগ্রহ, স্বীকৃতি করা এমপিও করার মধ্যে দিয়ে একযুগ কেটে গেল। এখন আমি প্রাইভেট স্কুলের সাধারণ শিক্ষক থেকে হয়ে গেলাম এমপিওভূক্ত হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক। পরে স্কুলটিকে কলেজে উন্নীত করে যাই প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ।
আইনজীবী হিসেবে জন্ম
আমার আইনজীবী হবার অনুপ্রেরণা চরম অনিশ্চয়তা থেকই। অনেক বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন জীবন যাপন দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। অবসরের পর কিভাবে চলবো? ব্যবসা করবো পুজি কোত্থেকে পাব? টিউশনি করবো, বছরে তিন চর মাস টিউশনি বন্ধ থাকে। তাহলে উপায়? রাজনীতি করার সুবাদে মামলার কারণে কোর্টে যাতায়াত করতে করতে দেখতাম আমার থেকে অনেক দূর্বল ছাত্র আইনজীবী হিসেবে বেশ ভালোই আছেন। এই ভাবনা থেকে ২০১২ সালে রাজশাহী আইন কলেজে ভর্তি হই এবং সব পরীক্ষায় এক চান্সে পাশ করে এখন ঢাকা জজ কোর্টের একজন আইনজীবী।