স্মৃতির ফ্রেমে বাঁধা এক নাম শারমীন রীমা

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৪-০৯ ২১:৩৭:০০
image

 নানান কারণে বিভিন্ন সময়ে কিছু হত্যাকান্ড চাঞ্চল্যকর অবস্থা সৃষ্টি করে। শারমীন রীমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ছিলো এরকমই এক হত্যাকাণ্ড যা পুরো দেশটাকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো সে সময়! রীমা হত্যা ঘটনায় শোকে আর ঘৃণায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো পুরো জাতি। 
কে এই রীমা? কেনো তাঁকে হত্যা কর‍া হলো? কি হয়েছিলো তাঁর সাথে? চলুন অল্প কথায় বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক-
১৯৮৯ সালের ৯ এপ্রিল 
রাজধানীর প্রভাবশালী এবং খ্যাতনামা এক ডাক্তার দম্পতির ব্যবসায়ী ছেলে মুনির হোসেন তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী শারমিন রীমাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। 
নিহত রীমা ছিলেন একাত্তরের শহীদ সাংবাদিক নিজামউদ্দিন আহমেদের ছোটো মেয়ে।
ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল এই রীমা হত্যাকান্ড। সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন আহমেদের পরিবারে একাত্তর থেকেই শুরু হয় শোকগাথা। 
প্রথমে পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে শহীদ হন পরিবারকর্তা সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন আহমেদ। এরপর হোসনে আরা খুকু নামের এক দ্বিচারিনীর সাথে স্বামীর পরকীয়ার বলি হন শারমীন রীমা।
রীমার বিয়ে হয়েছিল রাজধানীর সম্ভ্রান্ত এক ডাক্তার পরিবারে। রীমা ছিল পরিবারের ছোট মেয়ে। অনেক আদর ভালোবাসায় বড় হয়েছিলেন তিনি। ডাক্তার পরিবারে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর সুখ হবে ভেবে। কিন্তু রীমা সুখি হতে পারেননি। স্বামীই তাঁকে দেয়নি সুখি হতে।
১৯৮৮ সালের ১১ ডিসেম্বর রীমার বিয়ে হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল এবং ডাক্তারদের সংগঠন বিএমএর সাবেক সভাপতি ডা. আবুল কাশেম এবং ডা. মেহেরুন্নেছার ছেলে মুনির হোসেন সুরুজের সঙ্গে। 
রীমা ছিলেন তখন ধানমণ্ডির এক কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষিকা। ডাক্তার দম্পতির পুত্র মুনির সৎ চরিত্রবান জেনে রীমাকে তাঁর বিধবা মা মুনিরের সঙ্গে বিয়ে দেন। যাতে তাঁর মেয়ে দাম্পত্য জীবনে সুখি হয়। কিন্তু এটা ছিল তাঁদের ভুল ধারণা।
নিজ গাড়িতে সড়ক পথে চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে কাঁচপুর ব্রিজের পাশে মিজিমিজি গ্রামের কাছে স্বামী মনির হোসেন তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করে। 
দিন যায় দিন আসে। তারপরও পঁয়ত্রিশ বছর ধরে আমাদের স্মৃতির ফ্রেমে আজও বাঁধা আছে হাতের মেহেদির রঙ না শুকানো দুচোখ ভরা স্বপ্ন দেখা এক তরুণী শারমীন রীমার কচি মুখ।   
দিনটি ছিল ১৯৮৯ সালের ৯ এপ্রিল শনিবার। শ্রদ্ধাঞ্জলি।