স্মরণঃ কিংবদন্তি শিল্পী সোহরাব হোসেন

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৪-০৯ ১৫:০৩:৪৯
image

নজরুলসঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী সোহরাব হোসেন। 
সুদীর্ঘ আট দশক ধরে তিনি নজরুলসঙ্গীতের সাধনায় নিজেকে নিমগ্ন রেখে সঙ্গীতের এ শাখাকে সমৃদ্ধ করেছেন। অর্জন করেছেন খ্যাতি দেশে ও বিদেশে। 
সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবেও তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ।
জন্ম ১৯২২ সালের ৯ এপ্রিল নদিয়া জেলার আয়েশতলা গ্রামে।
বাড়িতে গান বাজনার চর্চা ছিল না। কিন্তু শৈশবেই সোহরাব সুরের মায়ায় মোহিত হন। মাত্র নয় বছর বয়সে রানাঘাটের এক সঙ্গীত আসরে নজরুলসঙ্গীত শুনে হয়ে ওঠেন এ গানের অনুরাগী ভক্ত। 
শৈশবে তাঁর সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় সঙ্গীত শিক্ষক জয়নুল আবেদীনের কাছে।
পারিবারিক বিরাগ উপেক্ষা করে পরবর্তী সময়ে সঙ্গীগুরু কিরণ দে চৌধুরী, শিল্পী পূরবী দত্ত প্রমুখের কাছে তালিম নিয়েছেন। 
কিরণ দে চৌধুরীর মাধ্যমে শিল্পী সোহরাব হোসেন কলকাতার শ্রীরঙ্গম থিয়েটারে গায়ক হিসেবে যুক্ত হন। 
১৯৪৬ সাল থেকে এইচএমভি ও রেডিওর শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। 
শিল্পী জীবনে সোহরাব হোসেন শিল্পী আব্বাস উদ্দীন আহমেদ, ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, ইন্দুবালা, আঙুরবালা, গিরীশ চক্রবর্তী, ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, শচীন দেব বর্মন, অঞ্জলি মুখার্জি, কবি জসিমউদ্দিন প্রমুখ বিখ্যাত জনের সাহচর্য লাভ করেন। 
১৯৪৭ সালে শিল্পী ঢাকায় স্থায়ী হন এবং সরকারি তথ্য বিভাগের কাজে যোগ দেন। পাশাপাশি বেতারে নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন এবং সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে থাকেন।
ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও শিক্ষক ছিলেন তিনি। এছাড়া বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি ও নজরুল একাডেমির শিক্ষক এবং নজরুলসঙ্গীত প্রমাণীকরণ পরিষদ ও নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন সোহরাব হোসেন।
বাংলাদেশের অনেক কৃতি শিল্পী তাঁর কাছে সঙ্গীত শিক্ষা নিয়েছেন। বেশ কিছু আধুনিক গানও গেয়েছেন তিনি। 
নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন মাটির পাহাড়, যে নদী মরুপথে, গোধূলির প্রেম, শীত বিকেল ও এ দেশ তোমার আমার ছায়াছবিতে।
সঙ্গীত সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পদক, নজরুল একাডেমি পদকসহ নানান পুরস্কার ও সম্মাননা।
দেশের প্রখ্যাত নজরুলসঙ্গীত শিল্পী রওশন আরা সোমা ও রাহাত আরা গীতি তাঁরই সুযোগ্যা কন্যাদ্বয়।  
২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রয়াত হন কিংবদন্তি শিল্পী সোহরাব হোসেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।