শুভ জন্মদিন মাহমুদ কলি

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৪-০৭ ১৯:২৯:২৩
image

মাহমুদ কলি এদেশের বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা।
দীর্ঘদিন তিনি রূপালি পর্দায় দর্শক মাতিয়েছেন। সুন্দর মুখ, সুঠাম লম্বা দেহ, স্টাইলিশ চুল মাহমুদ কলিকে দিয়েছিলো অন্য নায়কদের চেয়ে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা। বিদেশের মনোরম লোকেশনের সিনেমার নায়ক হিসেবে মাহমুদ কলির সুনাম ছিল।
জীবন গতিশীল। সে কোথাও এক জায়গায় আটকে থাকে না। কোনও না কোনও ভাবে সময় কেটেই যায়। আগে সিনেমায় সময় কাটতো তাঁর আর এখন ব্যবসা আর পরিবারের সঙ্গে দিন কেটে যায়।
একটা সময় চলচ্চিত্রেই মনোযোগ ছিলো কলির। নতুনদের আগমণে সেখানে অনেক পরিবর্তন এলো। ধীরে ধীরে তাদের প্রজন্মের গল্প ও চরিত্রগুলো বদলে গেল। তারও কিছু পরে ঢুকে গেল অশ্লীলতা। তখন থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি।
মাহমুদ কলি ছিলেন আশি ও নব্বই দশকের নায়ক। তাঁর পারিবারিক নাম মাহমুদুর রহমান উসমানী। 
তিনি বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনির্মাতা আজিজুর রহমান বুলি’র ছোট ভাই। মূলত ভাইয়ের হাত ধরেই তিনি চলচ্চিত্রে আসেন। 
অশোক ঘোষের 'প্রিয়তমা' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রূপালি ভুবনে অভিষেক ঘটে তাঁর। ছবিতে তাঁর সিনিয়র শিল্পী ছিলেন রাজ্জাক ও ববিতা।
এরপর ১৯৭৮ সালে একই পরিচালকের ‘তুফান’ চলচ্চিত্রে মূল নায়কের ভুমিকায় অভিনয় করেন।তারপর 'মতিমহল' ছবিতে রাজ্জাক কবরীর সাথে অভিনয় করেন। ছবিতে তাঁর নায়িকা ছিলেন কল্পনা। 
মাহমুদ কলি ৬১টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে ২টি ছবি মুক্তির মুখ দেখেনি।
অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো - মাস্তান, লাভ ইন সিঙ্গাপুর, গোলমাল, নেপালি মেয়ে, শ্বশুরবাড়ি, খামোশ, সুপারস্টার, গ্রেফতার, মহান, দেশ বিদেশ, মা বাপ প্রভৃতি।
শাবানা, ববিতা, রোজিনা, অলিভিয়া, দিতি, চম্পা, অঞ্জনা, সূচরিতা, নূতনসহ অনেক নায়িকার সঙ্গেই তাঁকে দেখা গেছে সপ্রতিভ। তিনি কলকাতার দেবশ্রী রায়ের বিপরীতে ‘সবার উপরে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এর পরিচালক ছিলেন শওকত জামিল।
১৯৯৭ সালে তিনি টিভি নাটক নির্মাণেও নাম লেখান। ‘তাদের কথা’ শিরোনাম ছিলো তাঁর প্রথম নাটকের। এরপর তিনি ‘আলোকিত আঙ্গিনা’ নামে আরও একটি ধারাবাহিক নাটক নির্মান করেন।
মাহমুদ কলির জন্ম ৭ এপ্রিল ঢাকাতেই। পিতৃ নিবাস ফেনী। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান তিনি। ঢাকাতেই  পড়ালেখার হাতে খড়ি। তবে মাধ্যমিক শেষ করেছেন যশোর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত বাংলাদেশ সরকারের সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত দাউদ পাবলিক স্কুলে। সেখানে তিনি হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন। ১৯৭২ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন।
এরপর আবার চলে আসেন ঢাকায়। নটরডেম কলেজ থেকে আইএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৮০ সালে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
ব্যক্তি জীবনে তিনি স্ত্রী আয়েশা উসমানী ও এক কন্যা আনিকা উসমানীকে নিয়ে সুখেই দিনযাপন করছেন।
আজকের এই বিশেষ দিনটিতে তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা।