শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি অভিনেতা আলমগীর

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৪-০৩ ২৩:৫৮:৩৩
image

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা আলমগীর আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। 
অভিনয় ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় চলতি ২০২৪ এ ভূষিত হয়েছেন তিনি একুশে পদক সম্মাননায়।
পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা বিভাগে নয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন।
রূপালি ভুবনে তাঁর অভিষেক ঘটে ১৯৭৩ সালে আলমগীর কুমকুম পরিচালিত 'আমার জন্মভূমি' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে।
১৯৭৮ সালে তিনি দিলিপ বিশ্বাস পরিচালিত ‘জিঞ্জির’ ছবিতে কাজ করার সুযোগ পান। এ ছবিতে রাজ্জাক ও সোহেল রানার সঙ্গে অন্যতম নায়ক হিসেবে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়ে।  
এরপর দস্যুরাণী, চাষীর মেয়ে, গুণ্ডা, মাটির মায়া ইত্যাদি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।  শাবানার সঙ্গে তাঁর জুটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
১৯৮৫ সালে কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘মা ও ছেলে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদে প্রথমবারের মতো সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন আলমগীর।
শাবানার বিপরীতে ভাত দে, সত্যমিথ্যা, স্বামী স্ত্রী, সখিনার যুদ্ধ, রজনীগন্ধা, রাঙাভাবী, মরণের পরে, পিতা মাতা সন্তান, অচেনা, অন্ধবিশ্বাস প্রভৃতি ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করেন আলমগীর।
শাবানার বিপরীতে তাঁর জুটি এক সময় এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে পর্দার বাইরেও তাঁদের রোমান্স চলছে এমন গুঞ্জন প্রকাশিত হয় চিত্রালী, পূর্বাণী প্রভৃতি সিনে পত্রিকাগুলোতে। যদিও আলমগীর এবং শাবানা দুজনেই তখন ছিলেন বিবাহিত।
অভিনয়ের সুবাদে সাতবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও দু’বার শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনের সুযোগ হয়েছে তাঁর। আলমগীরকে বলা হয় বাংলাদেশের চিরসবুজ নায়ক।
মানানসই ছিলেন সব ধরনের চরিত্রে। ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, ডাক্তার, গায়ক, গ্রামের যুবক, শহুরে প্রতিবাদী তরুণ, আইনজীবী, বিচারক, মাস্তান, পুলিশ, ধনী, গরীব বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে তিনি সাফল্যের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। দু'শোর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। 
তাঁর অভিনীত জনপ্রিয় অন্যান্য সিনেমাগুলো হলো - জয় পরাজয়, চাষীর মেয়ে, অতিথি, কন্যা বদল, মনিহার, মধুমিতা, মাটির মায়া, জিঞ্জির, কসাই, ভাত দে, সখিনার যুদ্ধ, মা ও ছেলে, স্বামী স্ত্রী, অপেক্ষা, সত্য মিথ্যা, ক্ষতিপূরন, দোলনা, স্নেহ, দেশপ্রেমিক, সত্যের মৃত্যু নাই, অজান্তে, মায়ের অধিকার, কে আপন কে পর, মাটির ঠিকানা প্রভৃতি।
জন্ম ১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায়। 
তাঁদের আদি বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তাঁর বাবা কলিম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুরান ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি সংস্কৃতিমনা ছিলেন। 
আবদুল জব্বার খান যখন ঢাকার প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মাণ করেন সে সময় ছবিটি প্রযোজনার জন্য তাঁকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন কলিম উদ্দিন আহম্মেদ।
ব্যক্তিগত জীবনে আলমগীর দুবার বিয়ে করেছেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী ছিলেন গীতিকার খোশনুর আলমগীর। তাঁকে বিয়ে করেন ১৯৭৩ সালে। কন্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর তাঁদেরই কন্যা।
খোশনুরের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আলমগীর ১৯৯৯ সালে কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লাকে বিয়ে করেন। আঁখি পিতার সাথেই থাকেন।
'আগুনের আলো' চলচ্চিত্রে আলমগীর প্রথম নেপথ্য কণ্ঠ দেন। এছাড়াও তিনি কার পাপে, ঝুমকা ও নির্দোষ চলচ্চিত্রেও গান গেয়েছেন।
১৯৮৫ সালে 'নিষ্পাপ' চলচ্চিত্র দিয়ে তাঁর পরিচালনায় অভিষেক হয়। ২০১৮ সালে তাঁর পরিচালিত তৃতীয় চলচ্চিত্র 'একটি সিনেমার গল্প' মুক্তি পায়। 
সম্প্রতি তিনি 'বাচসাস' পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। 
এই বিশেষ দিনটিতে তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা আজকের।