এদেশের বাংলা চলচ্চিত্রের রূপালি পর্দায় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করা এক স্মরণীয় অভিনেত্রির নাম সিতারা বেগম। তিনি বেশিরভাগই কুটনি বুড়ি ধাইমা এসব চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
তবে এসব কিছুকে ছাপিয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মা।
রক্তাক্ত একাত্তরে সীমান্ত সংলগ্ন ফিল্ড হাসপাতাল থেকে তাঁর আহত পুত্রকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ভারতের সামরিক হাসপাতালে। পরবর্তীতে সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় জার্মানির একটি হাসপাতালে। দেশ স্বাধীনের কিছুদিন পর তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। ঠিকানা না থাকায় জার্মানিতেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।
পরবর্তীতে জার্মান পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিসহ সেই সংবাদটি খুঁজে এনেছিলেন নন্দিত টেলিভিশন উপস্থাপক ও ঢাকা উত্তর সিটির সাবেক মেয়র আনিসুল হক।
অভিনেত্রি সিতারা বেগমের উপস্থিতিতে বিটিভিতে তিনি তাঁর সঞ্চালিত অনুষ্ঠানে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন সেসময়।
বিটিভিতে প্রচারিত সেদিনের সেই অনুষ্ঠানে বিষয়টি জানার পর পুত্রের জন্য সিতারা বেগম কেঁদে উঠেছিলেন হাউমাউ করে। কেঁদেছিলেন টিভি সেটের সামনে বসা হাজারো দর্শকবৃন্দ।
জন্ম ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৩৬ সালে। চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি মঞ্চ বেতার ও টেলিভিশনে একসময় নিয়মিত অভিনয় করতেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো - ভাগ্যচক্র, পালাবদল, আলিঙ্গন, সখিনা, রং বদলায়, অশান্ত ঢেউ, সারেং বৌ, সূর্য দীঘল বাড়ী, তরুলতা, আপন ভাই, বিনি সুতার মালা, সুন্দরী, উজান ভাটি, বড়মা, গৃহবিবাদ, চাঁপাডাঙ্গার বউ প্রভৃতি।
গুণী এই অভিনেত্রি ৩০ মার্চ ২০০১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।