স্মরণ-অধ্যাপক সুলতানা জামান

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৩-২২ ২১:৩৭:০৬
image

তাঁর পুরো নাম সুলতানা সারওয়াত আরা জামান। তবে শিক্ষিত সূধী সমাজে তিনি অধ্যাপক সুলতানা জামান নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক।
তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) কাজী নুরুজ্জামানের স্ত্রী।
প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পী এবং সংস্কৃতিজন লুবনা মারিয়াম ও নায়লা খান তাঁর মেয়ে। কণ্ঠশিল্পী আনুশেহ আনাদিল তাঁর দৌহিত্রী।
জন্ম ১৯৩২ সালের ৯ জুন ঝিনাইদহ জেলায়। পিতার নাম খান বাহাদুর সিরাজুল ইসলাম ও মাতার নাম রাহাত আরা বেগম। আট ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তাঁর এক ভাই জামাল নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন বিজ্ঞানী।
পড়াশোনা করেছেন তিনি কলকাতায় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাই স্কুলে। সাতচল্লিশের দেশবিভাগের পর তাঁরা সপরিবারে চট্টগ্রামে চলে আসেন।
১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৭৫ সালে তিনি সেখান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
সুলতানা জামান ১৯৭২ সালে ছিন্নমূল শিশু ও নারীদের সেবার লক্ষ্যে মালিবাগের গুলবাগে দীপশিক্ষা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে 'সোসাইটি ফর দ্য কেয়ার অ্যান্ড এডুকেশন ফর মেন্টালি রিটার্ডেড চিলড্রেন' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তী সময়ে 'সুইড বাংলাদেশ' নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৮৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন।
সুলতানা জামান ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে স্পেশাল এডুকেশন বিভাগ চালু হয়।
সামাজিক উন্নয়নে সবিশেষ ভুমিকা রাখায় তিনি ভূষিত হয়েছেন বেগম রোকেয়া পুরস্কারে।
২২ মার্চ ২০২০ সালে বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ ও সমাজহিতৈষী মৃত্যুবরণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।