সমস্যাটা কোথায় জানেন কী?
সমস্যা হলো আপনি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সর্বনাশ যা হবার হয়ে গেছে,
সবকিছু তো আর আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই।
রাস্তা ধরেই হাঁটছেন,বেখেয়ালে পড়ে গেলেন নর্দমায়
কাপড় চোপড় নোংরায় মাখামাখি-মুখে চুনকালি।
নিরিবিলি চায়ের কাপ হাতে বসে আছেন,ওপর থেকে দেয়াল ধ্বসে পড়ল-
মাথা ফেটে চৌচির!
রিক্সায় চড়ে বাড়ি ফিরছেন -হঠাৎই রিক্সা উল্টে গেল-
হাত পা ভেঙে ঘরে শয্যাশায়ী।
মনে মনে ভাবছেন ভাগ্যিস গাড়ি চাপা পড়িনি!
বন্ধু ভেবে নিশ্চিন্তে পথ চলছেন-
সুযোগ সন্ধানী বন্ধু আপনার সর্বস্ব কেড়ে নিঃস্ব করে দিল।
আপনি নির্বাক!
কাকে কী বলবেন।
নিজের বোকামিতে নিজেই হতভম্ব।
এখন আপনি বসে বসে মাথার চুল ছিঁড়ুন,
আপনার এখতিয়ারে যত গালাগালি আছি তাও ঝাড়তে পারেন,
বিধ্বংসী সব গালি -না হলে দু একটা শিখে নিন
তারপর ঝেড়ে কয়েকটা গালি দিন,
আপনি এতটুকুই করতে পারবেন।
কেউ শুনবে না -মনে মনে দেয়া গালি কে শুনবে বলুন!
দাঁতে দাঁত চেপে মুখ বাঁকিয়ে আপনি নিজের মনেই বকে যাবেন।
আপনি কাঁদছেন -মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে।
মুখ চেপে ধরে নয়ত শাওয়ারের জল ছেড়ে কাঁদছেন
সে কান্নাও কেউ দেখবে না,শুনবে না
এ কান্না বড় লজ্জার!
কেউ দেখুক তা আপনি চাইছেন না।
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে চিৎকার করতে চাইছেন
ব্যাথায় দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছেন
শরীরটাকে দ’ বানিয়ে যন্ত্রণার উপশম খুঁজছেন।
আর যদি এসবে আপনার না পোষায়
তাহলে কী করবেন?
মাথার ওপর ঘুরতে থাকা পাখাটাকে খুব আপন করে নিয়ে তার গলায় ঝুলে পড়বেন -
দুর্দান্ত সাহসী হয়ে দশ তলার ওপর থেকে ঝাঁপ-
ট্রেনের নিচে লাফ,
তাও করতে পারেন।
অনেকে আরো সাহসী -নিজেকেই নিজে গুলি করে দেয়।
ব্যস খতম-সব শেষ।
একবারেই সব যন্ত্রণার অবসান
ধুঁকে ধুঁকে এমন কষ্ট পাবার কী দরকার।
তাই বলে জীবন যুদ্ধে এভাবে হেরে যাবেন!
আপনি কেন হেরে যেতে চাইছেন -
কিছু যুদ্ধ নিজের -সে যুদ্ধে নিজেকেই জয়ী হতে হয়
কিছু কষ্ট একান্ত আপন -কাউকে বলা যায় না,
কষ্ট লালন করে শক্ত হতে হয়
কিছু জল নীরবে ঝরাতে হয়-কাউকে দেখানো যায় না-
তাতে শান্তি লাঘব হয়।
কিছু ভুল শোধরানো যায় না -নিজের অজান্তেই ভুলের ফাঁদে পা জড়িয়ে যায়-
কিন্তু তাতে মানুষ চেনা যায়।