‘আজ কী শোনাবেন, নিখিলদা?’
কুয়াশার মধ্যে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে জিগ্যেস করছে বাবা।
কোন শহর এটা? চিনতে পারছি না আমি।
ভোরের স্বপ্নে শহর চেনা যায় না।
একটা সেতার ভেসে ভেসে চলেছে ওঁদের পাশে।
বাতাসে তার বাঁধা হচ্ছে একের পর এক। ললিত সম্ভবত।
পাশেই ধোঁয়া ওঠা সমুদ্র।
একের পর এক মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বিরাট সব
প্রাগৈতিহাসিক প্রিন্টিং মেশিন, তাদের নোঙর নেই কোনও।
ধর্মঘট হওয়া মানুষের ভেসে যেতে সমুদ্র লাগে না।
মৃত দাবি-দাওয়ার এই বন্দরে জাহাজ আসে না বহুকাল।
কেবল শীতে ফোটে প্রতিশ্রুতির ফুল। গ্রীষ্মে বিচ্ছেদ।
তারই মধ্যে, নিজের জন্মদিন ভুলে যাওয়া বাবা হাঁটছে
এক ভাসমান সেতারের পাশেপাশে।
কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে ব্রিজ।
সমুদ্রেরও, সেতারেরও।
‘সারারাত হাঁটলে, তুমি বাড়ি ফিরবে না তপন?’
ভোরের স্বপ্নে শহর চেনা যায় না।
কেবল বাবার পায়ের ছাপ আমার বুকের ওপর দিয়ে চলে যায়।