তারাবী নামাযের কিছু জরুরি মাসআলা

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৩-০৭ ০১:৫৮:১৬
image

১. তারাবীর নামায নারী-পুরুষ সকলের জন্যই সুন্নতে মুআক্কাদা। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৪৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৪-২৩৫; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩

২. তারাবীর নামায দুই রাকাত করে বিশ রাকাত পড়া সুন্নত। প্রত্যেক চার রাকাতের পরে কিছুক্ষণ বিরতি দেবে। এই বিরতিকে আরবীতে বলে ‘তারবীহা’। এ সময় তাসবীহ-তাহলীল পড়া বা চুপ থাকা সবই জায়েয। এ সময়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দুআ কুরআন কারীমে বা সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়নি। -আলবাহরুর রায়েক ২/৬৯; রদ্দুল মুহতার ২/৪৫-৪৬

৩. তারাবীর নামাযে দ্বিতীয় রাকাতের পরে তাশাহহুদ পড়ে ভুলে দাঁড়িয়ে গিয়ে আরো দুই রাকাত মিলিয়ে পড়ে নিলে চার রাকাতই তারাবী হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য সাহু সিজদা লাগবে না। কিন্তু তাশাহহুদের জন্য না বসেই আরো দুই রাকাত মিলিয়ে পড়লে শুধু শেষ দুই রাকাত সহীহ হবে। এক্ষেত্রে প্রথম দুই রাকাত পুনরায় পড়তে হবে এবং খতম তারাবী হলে ওই দুই রাকাতে পঠিত কেরাতও পুনরায় পড়তে হবে। দুই রাকাতের পরে ভুলে না বসে তৃতীয় রাকাত পূর্ণ করে সালাম ফেরালে ওই নামায ফাসেদ হয়ে যাবে। তবে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে সিজদায় যাওয়ার আগে যখনই স্মরণ হবে বসে পড়বে এবং সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৫৭-২৫৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭-১১৮

৪. মদ-গুন্নাহ যথাযথভাবে আদায় হয় না এবং উচ্চারণ বুঝে আসে না- এত তাড়াতাড়ি কেরাত পড়া সব সময়ের মতো তারাবীতেও মাকরূহ। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭

৫. কেউ কেউ তারাবীর জামাতের সময় প্রথম রাকাতে বসে থেকে ইমামের রুকুতে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকে। এমনটি করা মাকরূহ। -ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৯; রদ্দুল মুহতার ২/৪৮

৬. তারাবীতেও নাবালেগের পেছনে বালেগের ইকতিদা জায়েয নেই। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭

৭. রমযান মাসে বিতির নামায জামাতের সাথে পড়া মুস্তাহাব। -রদ্দুল মুহতার ২/৪৯

৮. দাঁড়িয়ে তারাবী পড়ার শক্তি থাকলে বসে পড়া মাকরূহ। -ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪৩; রদ্দুল মুহতার ২/৪৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৮

৯. তারাবীর জামাত কয়েক রাকাত হয়ে যাওয়ার পরে কেউ এসে উপস্থিত হলে সে আগে এশার নামায ও সুন্নত পড়বে, এরপরে তারাবীর জামাতে শরীক হবে। তারাবীর জামাতের পরে সম্ভব হলে সে আগে একাকী বাকি তারাবী আদায় করে নেবে, তারপরে বিতিরের জামাতে শরীক হবে। যদি বিতিরের জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে আগে বিতিরের জামাতে শরীক হবে, এরপর বাকি তারাবী আদায় করবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৬৩; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭

১০. অন্যান্য ফরয নামাযের মতো তারাবীও মহিলারা নিজ ঘরেই পড়বে। খতম তারাবীর জন্য মসজিদে যাবে না। যদি তাদের মাহরাম কোনো পুরুষ ঘরে খতম তারাবী পড়ে, তাহলে তার পেছনে যথানিয়মে ইকতিদা করতে পারে।

আল্লাহ আমাদেরকে রমযানের যথাযথ কদর করার এবং পূর্ণ গুরুত্বের সাথে তারাবী আদায়ের তাওফীক দিন- আমীন।-সংগ্রহ।