বহুদিন পর আজ স্মৃতির সিন্ধুকটা খুলেছিলাম-
ভাঙ্গা হৃদয়ের কিছু টুকরো পেলাম,
নিখুঁত কিছু ওয়াদা পেলাম;
এক বান্ডিল পুরোনো নীল চিঠি পেলাম।
স্বযত্নে তুলে রাখা কিছু উপহার পেলাম।
ভাঙ্গাচুরা শব্দে আমাকে লেখা দু'তিনটে কবিতা পেলাম।
সমুদ্রের সাদা সফেনে লেপ্টে থাকা ঝিনুকের গায়ে
তোমার আমার নাম পেলাম।
অনেক খোঁজ করলাম
কিন্তু কোথাও তোমাকে পেলাম না।
রোমাঞ্চিত সেই ক্ষণ–
উচ্ছ্বসিত হয়ে একে অন্যের সঙ্গে
দেখা করার দিনগুলি পেলাম।
ফাল্গুনে খোঁপায় গুঁজে দেওয়া কালচে হয়ে যাওয়া
কিছু গাঁদা ফুল পেলাম।
জীবনানন্দের কবিতা আবৃত্তি
তোমার সেই প্রিয় বনলতা সেন!
কানে কানে নয়, হৃদয়ে বাজে!
সেটাও পেলাম।
অনেক খোঁজ করলাম
কিন্তু কোথাও তোমাকে পেলাম না।
একান্তে কাটানো মুহূর্ত–
সংগোপনে হৃদয় গহীনে সাজিয়ে রাখা
ঘুম ভাঙ্গানি রাতগুলো পেলাম।
তোমার ঘ্রাণ পেলাম,
আদরের উষ্ণতা পেলাম;
গভীর অনুভূতির মুকুলিত বাসনার মৌসুম পেলাম।
ছিল মখমলের চাদরে জড়ানো নির্ভরতার আশ্রয়,
তা-ও পেলাম-
অনেক খোঁজ করলাম
কিন্তু কোথাও তোমাকে পেলাম না।
বারান্দায় রোদ্দুরের আমেজ–
অস্থির করে দেয়া মন
সামনে কিংবা আড়ালে
ইশারায় গল্পের খুনশুটি পেলাম।
এক ছাতার নিচে পাশাপাশি
বৃষ্টি জলে কতই না মাখামাখি !
ভেজা মনের নরম মাটিতে তোমার স্পর্শ পেলাম।
জ্যোৎস্না রাতে শীতল পাটিতে গা এলিয়ে দিয়ে আকাশ ছোঁয়া–
ঝরে যাওয়া তারাদের এক মুঠোয় বন্দি করা,
আর অন্য মুঠোতে অনন্তকাল দুজন দুজনার
ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে থাকার ওয়াদাও পেলাম।
সব জায়গায় অনেক খোঁজ করলাম
কিন্তু কোথাও তোমাকে পেলাম না।