শরত বাবুর পার্বতীর মত রাজরানীর খেতাব
পেয়েও আমি বড় বেশি অসুখি দিগন্ত!
হীরে জহরতে আবৃত দেহখানি মনে হয়
পরাধীনতার শেকল পড়ে আছি।
চারদেয়ালে বন্দি থেকে আজকাল
নিজেকে গিনিপিগ মনে হয়।
প্রাসাদের আলোক সজ্জা এ যেন
আমার জন্য নয় ।
জোছনার আলো সেই ছিল ভালো
পিছন ফিরে যেতে ইচ্ছে করে দিগন্ত!
সেই সবুজ মাঠ ঠাকুর বাড়ির পুকুর ঘাট
আম বাগানে লুকোচুরি খেলা ।
মনে কি পড়ে তোমার?
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিকথা! পুতুল বউ হয়ে
চড়ুইভাতি খেলে কেটে গেছে সাঁঝ বেলা।
এই রাজ্যে শুধুই মানুষের মেলা ।
উফ! কি অসহ্য!
অনেক বছর হয়ে গেলো আর শুনিনা সেই হাঁক!
লেইস ফিতা লেইস ফিতা ফেরিওয়ালার ডাক ।
মন ছুটে যায় পুকুর ঘাটে যেখানে পদ্মফুলের সাথে
খেলা করে রাজহাঁস মৃদু হাওয়ায় উড়ে যেতো
রঙিন প্রজাপতি ।
হয়তো ভুলেই গেছো সব!
ইদানীং খুব মনে পড়ে তোমার কথা!
অলস দুপুরে একাকিত্ব হাতছানি দিয়ে ডাকে
হুহু করে উঠে বুকের খাঁচা!
কৃষ্ণচুড়ার মতো লাল রঙের শাড়িটি আর
পড়া হয় না কপালে লাল টিপ পড়ি না বহুদিন !
বয়সের ভাঁজে সব হয়েছে বিলীন।
আমাদের পাড়ায় তোমাকে দেবদাস বলে
ডাকা হতো কিন্তু তুমি ছিলে প্রেমরাজ প্রমিথিউস ।
আর আমি শুধু প্রেমের দেবী হেলেন
হতে চেয়েছিলাম ।