সম্প্রতি বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন মিডিয়ায় কথা বলেছে যা দেশের প্রথমসারির নিউজ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।সে বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এক স্টাটাসে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।পাঠকের উদ্দেশ্যে স্টাটাসটি তুলে দেয়া হল-
অমর্ত্য সেনের বাংলাদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্য শিরোণামে তিনি লিখেছেন-
'ভারতের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন সম্প্রতি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত নাক গলানোর মত কথা বলেছেন। জানিনা তার বিবেক কোথায়? বাংলাদেশকে সহনশীলতার সবক দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। তিনি যে দেশে এবং সমাজে বসবাস করেন, সেই সমাজের আয়নায় নিজেকে দেখার চেষ্টা করুন।
বাংলাদেশের জনগণ টানা সাড়ে ১৫ বছর সেক্যুলারিজমের নামে চরম ভণ্ডামি প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি পতিত স্বৈরাচারের পক্ষে খোলামেলা ওকালতি করছেন। যা বিস্ময়কর, অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়।
জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যা বলেছেন তার বদ্ধমূল ধারণা থেকে বলতে চেয়েছেন। বাস্তবতা পুরোটাই উল্টো।
সংখ্যালঘু বলে তিনি যাদেরকে চিহ্নিত করেছেন, সেই সমস্ত ভাই-বোনদের উপর নির্যাতনকারী দানবের নাম হচ্ছে আওয়ামীলীগ। সাহস থাকলে তা বলে দিন। পারবেন না। কারণ আপনারা সীমাবদ্ধ সুশীল।
বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে সময়-অসময়ে নাক গলানো দেশপ্রেমিক জনগণ একেবারেই পছন্দ করেন না।'
কি বলেছিলেন অমর্ত্য সেন?
বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যাপারে তিনি বলেন, ড. ইউনূস অত্যন্ত যোগ্য। তার সক্ষমতার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
সম্প্রতি শান্তিনিকেতনে তার পৈতৃক বাড়িতে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের সম্পর্কে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস আমার পুরোনো বন্ধু। তিনি বিভিন্ন দিক থেকে একজন অসাধারণ মানুষ।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সতর্ক করে অমর্ত্য সেন বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে। যে কারণে আওয়ামী লীগ সরকারকে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো দোষারোপ করেছিল।
তিনি বলেন, আপনি যদি হঠাৎ করে কোনো দেশের প্রধান হয়ে যান তাহলে আপনাকেও ড. ইউনূসের মতো কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। আপনাকে অবশ্যই বিভিন্ন দল বিবেচনা করতে হবে। কারণ, সেখানে ইসলামিক দল রয়েছে, হিন্দু দলও রয়েছে।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সাইডলাইন করার চেষ্টা না করে বাংলাদেশের উচিত ঐতিহ্যকে ধারণ করে একসঙ্গে কাজ করা। এ জন্য বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। আমি আশা করি, স্বাধীনতা ও বহুত্ববাদের প্রতি বাঙালির প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে। (আংশিক)।