বরগুনায় নৌকা জাদুঘর অপসারণ করলো বিক্ষুব্ধ জনতা

  • এম আর অভি,
  • ২০২৫-০২-০৩ ২১:৩৩:৪০
image

বরগুনা প্রতিনিধি: পাঠাগার ভেঙে  নির্মাণ করা ১৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের বরগুনার বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর অপসারণ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে এমন দাবি করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা । শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এটি  অপসারণ করে অপসারিত মালামাল বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে বরগুনা পৌরসভা পরিচ্ছন্নতা কর্মী স্টাফরা জানিয়েছেন। বরগুনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুরাদুজ্জামান টিপন বলেন, নৌকা জাদুঘরের নামে ১০টি জাদুঘরের চাঁদা ওঠানো হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি দখল করে নৌকা জাদুঘর করা হয়েছে। তাই বিক্ষুব্ধ জনগণ এটা ভেঙে ফেলেছে।
বিএনপি নেতা সাবেক কাউন্সিলর এডভোকেট রুহুল আমিন ও সাবেক কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম স্বপন জানায়, জ্ঞানের ভান্ডার একটি ঐতিহ্যবাহী পৌর পাঠাগার ভেঙে নিয়মবহির্ভূত ভাবে বিভিন্ন দপ্তরে চাঁদাবাজি করে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর তৎকালীন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়। । এ ধরনের আমলাদের কারণে সরকার ফ্যাসিস্ট হতে উৎসাহী হয়।  ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর বরগুনা পৌর পুরোনো পাবলিক লাইব্রেরি ভেঙে বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর তৈরি করা হয়। তারা তৎকালীন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর শাস্তি দাবি করেন। ১৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের নৌকার আদলে জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এক এনজিও মালিক জানান, আমাদের এনজিওর কাছে নৌকা জাদুঘরের জন্য ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে সাবেক ডিসি মোস্তাইন বিল্লাহ । বরগুনায় শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, জাদুঘরের জন্য আমার কাছ থেকে ২ টন রড চাঁদাবাজি করতে ফোন দেওয়া হয়েছে আমার দোকানে। আমি দূরে থাকায় ফোন ধরতে দেরি হওয়ায় এবং না দিলে আমাকে জামাত বিএনপির ট্যাগ দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে এমনটি জানায় প্রশাসন।
সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান অভি জানান, তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বরগুনায় জমিদারি প্রথা চালু করেছিল, ডিসি অফিসে কিছু দালাল পালত। সাধারণ মানুষ কোন ন্যায় বিচার পেত না ।
সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান অভি আরো জানান, করোনা মহামারীর সকল বরাদ্দ লুটপাট করেছে সাবেক জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, তদন্ত করে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই। চারিদিকে করোনা মহামারী ঠিক তখন নৌকা জাদুঘরের নাম ভাঙিয়ে বরগুনা শহরের কালেক্টরেট মার্কেটসহ বিভিন্ন দপ্তরের  চাঁদাবাজি করে টাকা আত্মসাৎ করে ঐ সাবেক ডিসি মোস্তাইন বিল্লাহ। তার শাস্তি হওয়া উচিত।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে উদ্বোধনের চার বছর পর সেটিকে অপসারণ করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
গত ৫ আগস্ট জাদুঘরটির ওপর একদফা আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। তখন কিছুটা রক্ষা হলেও শনিবার নৌকা জাদুঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে অপসারণ করা হয়েছে।
বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট রেজবুল কবির বলেন, এখানে গণ পাঠাগার ছিল। তা ভেঙে বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর বানানো হয়েছে। ওই স্থান থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের তোষামোদি করতেই বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর বানানো হয়েছে। এখন জনগণ এটা ভেঙে ফেলছে। বর্তমানে এটি বেওয়ারিশ। এটির সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে কিন্তু বরগুনার জেলা প্রশাসন পৌরসভা কোন তথ্য দিতে পারে নাই। কারণ এটি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে নির্মাণ করা হয়নি। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তেলবাজি করা অন্যায়। যা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার।
এডভোকেট রেজবুল কবির আরও বলেন, ‘সাবেক জেলা প্রশাসকের নামে চাঁদাবাজির মামলা প্রক্রিয়াধীন। আমি তার বাদী হব।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।