নাচোলে প্রতিপক্ষের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে এক ছাত্রলীগ নেতাসহ ২ কিশোর-তরুন খুনের ঘটনায় মামলা,আটক ২

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৪-১২-১৮ ২৩:১৮:১৭
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায়  পেয়ারা বাগানে পেয়ারায় পিপি (পেয়ারা রক্ষার পলিব্যাগ) পরানো পাশাপাশি দু’গ্রামের কিশোর-তরুন কৃষি শ্রমিকদের দুটি গ্রæপের পূর্ব শত্রæতার জেরে গত মঙ্গলবার(১৭ ডিসেম্বর) রাতে এক গ্রæপের ছুরি ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে প্রতিপক্ষের এক ছাত্রলীগ নেতাসহ দুই কিশোর-তরুন  নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার(১৮ ডিসেম্বর) এ ঘটনায় মামলা করেছেন নিহত মাসুদের বাবা। এতে ১০ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামী করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় নিহতরা হল নাচোলের ফতেপুর ইউনিয়নের খলসি গ্রামের মো. এজাবুলের ছেলে,চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটের ইলেকট্রনিক্স ৮ম সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী  ও নাচোল উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মাসুদ রানা (২০) এবং  একই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে  ও নাচোলের মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাালয় থেকে ৫ম শ্রেনী সমাপনী পরীক্ষা দেয়া মো.রাইহান(১৫)। ওই ঘটনায় আহত হয় আরও অন্তত: ৩ জন। তাদের দু’জনকে আশংকাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর একজনকে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।  রাজশাহী পাঠানো আহত দু’জন হল খলসির মো. জালালের ছেলে মো.সুমন(১৮) ও  একই এলাকার মো. আলমের ছেলে মো.রজব (১৭)। অপর আহত খলসির আব্দুর রাকিবের ছেলে ট্রাক শ্রমিক মো.আরমানকে (২১) জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
পুুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দু’সপ্তাহ আগে ফতেপুর ইউনিয়নের খলসি গ্রামের শ্রমিক সর্দার সালামের প্র¯্রাবের ভিডিও ধারণ করে ফেইসবুকে আপলোড করে পাশের বাহির মল্লিকপুর গ্রামের কৃষি শ্রমিক শাহীন(২০)। এ নিয়ে দ’জনের দ্বন্দ ঘটে ও  দু’গ্রামে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মারামারিও হয়। এরই জেরে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফতেপুরের মল্লিকপুর  বাজারে বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় শহিদ জিয়া স্মৃতি সংঘ আয়োজিত আলোচনা সভা,পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুুষ্ঠান দেখে খলসির গ্রæপটি বাড়ি ফেরার পথে তাদের উপর পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা করে শাহীনের নেতৃতে তার গ্রæপ। হামলায় আহতদের ৫ জনকে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহাদ আলী রেহমান মাসুদ ও রাইহানকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. রেহমান বলেন, হতাহতদের প্রত্যেকের দেহের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাত ও ধারাল অস্ত্রের স্পষ্ট আঘাত রয়েছে। নিহত মাসুদের পিতা এজাবুল  ও চাচা  আসাবুল হাসপাতালে আহাজারি করতে করতে বলেন, কি নিয়ে ঘটনা তা তাঁরা বিষদ জানেন না। মাসুদ কৃষিকাজে সাহায্য করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাড়ি আসে। নিহত রাইহানের ভাই কীটনাশক ব্যবসায়ী মো.জাহাঙ্গীরও একই কথা বলেন। তবে তিনি সহ খলসির অনেক মানুষই ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে দাবি করেন। এদিকে ঘটনার সাথে কোন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছে পুলিশ। হাসপাতালে উপস্থিত খলসির বাসিন্দারা দাবি করেন. ঘটনাটি পাশাপাশি দুটি গ্রামের দু’দল কিশোর-তরুনের মাঝে পূর্ব দ্বন্দের জের । ঘটনায় বাহির মল্লিকপুর গ্রামের কেউ হতাহত হবার খবর পাওয়া যায়নি। সকল হতহত খলসির বাসিন্দারা।
নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মরেদহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করেছে।আসামী গ্রেপ্তাওে অভিযান চলছে।