শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির স্মৃতিচারণ

  • স্বপন কুমার সাহা
  • ২০২৪-০৬-২২ ১৩:০৭:০৩

১৯৪৮ সালে ঢাকা পাবলিক লাইব্রেরিতে পশ্চিম পাকিস্তানীরা বাংলা ভাষা হরণ করার এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো যেনে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর সাথে পূর্ব পাকিস্তানীর বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনের সূচনা সৃষ্টি হয়। ঢাকা পাবলিক লাইব্রেরির সেই অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ ভূমিকা ছিল।
মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী তিনি তার দূরদর্শিতা চিন্তা ও চেতনার মধ্যদিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানী জনগণের স্বাধিকার আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হলে একটি রাজনৈতিক দল প্রয়োজন। তাই মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়, যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হক। পরবর্তীকালে, ১৯৫৫ সালে মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে পরে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়; নাম রাখা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’।
মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী বৃটিশ শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তিনি ১৯৩৪ সালে আসামে লাইনপ্রথা আন্দোলনে নেতৃত্বদেন এবং তিনি বলেছিলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে শাসক ও শোষকের বিরুদ্ধে, আমরা শোষিত জনগণের পক্ষে। মওলানা ভাসানীর পারিবারিক নাম আবদুল হামিন খান ছিলো। তিনি ভাসানচরে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দিয়ে সফল হওয়ার পর ভাসান চরের বাঙালি জনগণ তাকে ভাসানী উপাধিতে ভূষিত করেন। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী আজীবন লড়াই করেছেন কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের পক্ষে। তিনি কখনও ক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যাশাও করেন নাই এবং অর্থবিত্তকে লোভ লালসার উর্ধে ছিলেন। তিনি আমাদের কাছে রাজনীতি পুজনীয় ব্যক্তিত্ব।
তিনি রাজনীতির কারণে ১৯৫৭ সালে ফেব্রুয়ারির ৬, ৭ ও ৮ তারিখ তিন দিন ব্যাপী কাগমারী সম্মেলন হয়। সেখানে ৫৪টি তোরণ নির্মাণ করা হয়। প্রথম তোরণটি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নামে করা হয়। অন্যান্য তোরণটি বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের নামে করা হয়। ১৯৫৭ সালের ২৬ শে জুলাই তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি করেন রূপমহল সিনেমা হলে।
মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী তিনি অনুভব করেছিলেন যে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী লীগ পার্টি গঠন করেন।
মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর নামে হকি স্টেডিয়াম ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, বিশ্বনন্দিত দেশরত্ন জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী) এর পক্ষ থেকে সংগ্রামী অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা রইল। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন থাকবে, মওলানা ভাসানীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকাকে পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপকভাবে লিপিবদ্ধ করা এবং সাংবিধানিক ভাবে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানান।
 

 


এ জাতীয় আরো খবর