শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪

হত্যার পর এমপি আনারকে বেঁধে রাখার চিত্র মিলেছে ছবি-ভিডিওতে

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৪-০৬-১২ ২৩:১৫:১২

তদন্তকারী সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ছবি পেয়েছে।
হত্যার পর এমপি আনারকে বেঁধে রাখার চিত্র মিলেছে ছবি-ভিডিওতে।
ভিডিওতে দেখা যায়, অজ্ঞান করার রাসায়নিক ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করে আনারকে বালিশ চাপা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মৃত অবস্থায়ও আনারের হাত ও পা চেয়ারে বাঁধা ছিল।
ডিবি সূত্র জানায়, কিলার শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে ১৬ মে ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগ নেতা বাবুর মোবাইলে কথাবার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ চালাচালি এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে সাক্ষাৎ হয়। যার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
আনার হত্যারকাণ্ডের পর সঞ্জীবা গার্ডেন থেকে শিমুল ভূঁইয়া শাহীনের মোবাইলে যেসব ছবি পাঠিয়েছিল সেগুলো শাহীনই প্রথম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিন্টুর মোবাইলে পাঠিয়ে বলে 'আনার শেষ, মনোনয়ন কনফার্ম'।
আর বাবুর সঙ্গে যেদিন ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে শিমুল ভূঁইয়ার দেখা হয় সেদিন শিমুল আনার হত্যার ছবিগুলো বাবুর কাছে পাঠায়। কারণ শাহীন আগে থেকেই শিমুলকে বলেছিল এসব ছবি দেখিয়ে যেন বাবুর কাছ থেকে ২ কোটি টাকা নেয়।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল ভূঁইয়া, বাবু ও মিন্টুর সঙ্গে শাহীনের এবং তার সঙ্গে শুধু বাবুর যোগাযোগ হয়েছে বলে জানায়। শিমুলের দেওয়া এ তথ্য পাওয়ার পর থেকে যাচাই বাছাই শুরু করে ডিবি।
তদন্তের একপর্যায়ে বাবুকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায় ডিবি। বিষয়টি টের পেয়ে বাবু তার তিনটি মোবাইল ফোন নিজেই ধ্বংস করে হারানোর নাটক করে থানায় জিডি করে। কারণ তার মোবাইলে আনার হত্যার বিষয়ে শিমুল, শাহীনের সঙ্গে যেসব কথাবার্তা হয়েছে তার প্রমাণ ছিল।
বাবু বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে আছেন। আর মিন্টুকে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
বুধবার (১২ জুন) বিকেলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুর কাছে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিচার বিশ্লেষণের পরেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে ডাকা হয়েছে। মিন্টুর কাছে তথ্যগুলো জানতে চাওয়া হবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে যদি মিন্টু সদুত্তর দিতে পারেন তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর যদি কোনো প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় যা করার তাই করা হবে।


এ জাতীয় আরো খবর